জল্পনা সত্যি করে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে ফের প্রার্থী হচ্ছেন বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। বামেদের মুখাপেক্ষী হয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর অবশেষে সোমবার ফুরফুরা শরিফে ‘অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট’ বা আইএসএফ-এর রাজ্য কমিটির দফতর থেকে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৩৩টি আসনের মধ্যে এদিন ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আইএসএফ। তবে তালিকার সবথেকে বড় চমক-তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দেওয়া ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম। শওকত মোল্লার ছেড়ে আসা ক্যানিং পূর্ব আসনেই তাঁকে টিকিট দিয়েছে আব্বাস এবং নওশাদ সিদ্দিকির দল।
এদিন আইএসএফ-র প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় ভাঙড় কেন্দ্রটি নিয়ে আলাদা করে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সেখানে নওশাদের নাম ঘোষণা প্রত্যাশিত থাকলেও, লড়াইয়ের সমীকরণ এবার বেশ চড়া। কারণ, তৃণমূল সেখানে প্রার্থী করেছে ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক তথা ভাঙড়ের দাপুটে নেতা শওকত মোল্লাকে। তিনি ভাঙড়ে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক থাকাকালীন বার বার আরাবুলের সঙ্গে বিতণ্ডা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই আরাবুলকে ক্যানিং পূর্ব থেকে টিকিট দেওয়া নওশাদের ‘তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করা হচ্ছে। নওশাদ নিজে আবার ভাঙড় থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সোমবার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন নওশাদ। তাঁর আহ্বান, ‘মুখ্যমন্ত্রী সাহস থাকলে ভাঙড় থেকে প্রার্থী হয়ে দেখান।’
এক নজরে প্রার্থী তালিকা
আইএসএফ সূত্রের খবর, বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের পর ২৯টি আসনে ঐকমত্যে পৌঁছানো গিয়েছে। বাকি চারটি আসনে বামেরা প্রার্থী দিলেও সেখানে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের পথেই হাঁটছে আইএসএফ। এদিন দলের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি ও কার্যকরী সভাপতি সামসুর আলি মল্লিক ২৩ জনের নাম চূড়ান্ত করেন। প্রথম পর্যায়ে যে ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আইএসএফ, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পেশায় শিক্ষক রকারিমুল্লাহ হক (মালদহের সুজাপুর), শিক্ষক সামসুর আলি মল্লিক (নদিয়ার পলাশিপাড়া), জাকির মণ্ডল (নদিয়ার চাপড়া)। উত্তর ২৪ পরগনার সাতটি কেন্দ্রে লড়ার কথা জানিয়েছে আইএসএফ। বাদুড়িয়ায় জাকির মণ্ডল, অশোকনগরে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙায় বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামে প্রিয়াঙ্কা বর্মণ, দেগঙ্গায় মহম্মদ মফিদুল হক সাহাজি, হাওড়ায় পিয়ারুল ইসলাম, বসিরহাট উত্তরে মহম্মদ মুসা কারিমুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে আব্দুল মালেক মোল্লা, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল ইসলাম, মগরাহাট পশ্চিমে আব্দুল আজিজ আল হাসান এবং ভাঙড়ে নওশাদ সিদ্দিকি।

হুগলির হরিপালে আইএসএফ প্রার্থী করেছে শেখ মুজাফ্ফর আলি ওরফে মাজাকে। খানকুলে টিকিট পেয়েছেন শেখ সাদ্দাম হোসেন। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে আফজল আলি শাহকে। নন্দীগ্রামে টিকিট দেওয়া হয়েছে মৌলানা মহম্মদ শবে মিরাজ খানকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে পীযূষ হাঁসদা, পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনিতে বিশ্বজিৎ বাউড়ি, বীরভূমের বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেন এবং মুরারইতে হজরত আলি (সওদাগর) আইএসএফের প্রার্থী।
কয়েকটি আসনে জট?
আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় জানান, উত্তর ২৪ পরগনার করেকটি আসন নিয়ে এখনও জট কাটেনি। তাঁর কথায়, ‘সাত মাস ধরে আলোচনা হয়েছে। আর একটা দিন অপেক্ষা করব। আগামী বুধবার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করব।’ উল্লেখ্য, বামেরা মুরারই, পাঁশকুড়া পশ্চিম এবং নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেওয়ার পরেও আইএসএফ সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, আলোচনা কী ফলপ্রসূ হয়নি? নওশাদের দাবি, যে ২৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তা বামেদের সহমতের ভিত্তিতেই হয়েছে।