ভিক্ষাবৃত্তির হুমকির কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এক্সে বিখ্যাত সমাজকর্মী জাফর আব্বাসের একটি ভিডিও পোস্ট করেন আসিফ। যেখানে তাকে করাচির শাহ ফয়সাল এলাকার একটি শিশুর সাক্ষাৎকার নিতে দেখা যায়, যে ভিক্ষা করে।
আব্বাসের সাথে কথা বলার সময় শিশুটি বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ তথ্য দেয়। তা হলো, সে এবং তার দুই ভাই সপ্তাহে প্রায় ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ রুপি আয় করে এবং সম্প্রতি তারা একটি বাড়ি কিনেছে।
ভিডিওটির ক্যাপশনে আসিফ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি এখন সম্পূর্ণ সংগঠিত পেশায় পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদাররা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে এবং শিশু, নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে।
মন্ত্রী বলেন, একই সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো হাজার হাজার ভিক্ষুককে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাঠাচ্ছে, আরও যোগ করেন যে, পরিস্থিতি দেখে বিরক্ত হয়ে আয়োজক দেশগুলো পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা সীমিত বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরে নিয়োজিত বিভিন্ন সরকারি বিভাগের কর্মকর্তারা এই ‘লজ্জাজনক ব্যবসায়’ সমান অংশীদার এবং অবৈধ কার্যকলাপ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

শিয়ালকোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভিক্ষুকদের বেশিরভাগই দক্ষিণ পাঞ্জাব থেকে আসে, হোটেলে থাকে এবং শহরে সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তি পরিচালনা করে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে এই কার্যকলাপের মাত্রা কমেছে, তবে তাদের উপস্থিতি এখনও দেখা যাচ্ছে।
শিয়ালকোটে এই নেটওয়ার্কগুলো পরিচালনাকারী ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তি বলে মনে হয়। তিনি আরও বলেন, যখনই ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়, তখনই এই ঠিকাদাররা তাদের সুপারিশকারী হিসেবে কর্তৃপক্ষের কাছে যান এবং ব্যাপারটা সমাধান করেন।
এই ব্যবসাটি দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থান হিসেবে কাজ করছে এবং জোর দিয়ে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই ধরনের নেটওয়ার্ক কোনো শহরেই কাজ করতে পারে না। বলেন আসিফ।
মন্ত্রী সতর্ক করেন যে, সংগঠিত ভিক্ষাবৃত্তির সাথে আরও বেশ কিছু অনৈতিক ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ জড়িত, যা এটিকে দেশের জন্য একটি গুরুতর সামাজিক এবং আইন প্রয়োগকারী চ্যালেঞ্জ করে তুলেছে।ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত নাগরিকদের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানিদের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছে, বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর এই বিবৃতি দেয়া হয়েছে।