রাজ্যসভায় বিনোদন জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। তবে সকলে নিজের দায়িত্ব পালনে সফল হন না। গত কয়েক দশকে জয়া বচ্চনের সংসদে উপস্থিতি সবসময়ই সংবাদ শিরোনামে থেকেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজীব শুক্লা স্মৃতিচারণ করলেন পর্লামেন্টে জয়া বচ্চনের ‘দাপট’ এবং রেখার রহস্যময় নীরবতা নিয়ে। হ্য়াঁ, একটা সময় রেখাও রাজ্যসভার এমপি ছিলেন।
বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা জানান, জয়া বচ্চন যখনই রাজ্যসভায় কথা বলেন, তিনি অত্যন্ত প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। জয়া মোটেও শান্ত হয়ে বসে থাকার পাত্রী নন। জনস্বার্থ বা চলচ্চিত্র জগতের কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে তিনি অনেক বড় বড় মন্ত্রীকেও রেয়াত করেন না। রাজীবের কথায়, ‘জয়া অনেক সময় মন্ত্রীদের ওপর বেশ রেগে যেতেন এবং তাঁদের ধমক দিতেও পিছপা হতেন না। তাঁর এই ব্যক্তিত্বকে সকলে সমীহ করে চলেন।’
রেখা কি রাজনীতিবিদ ছিলেন? অন্যদিকে, যখনই রেখার কথা ওঠে, রাজীব শুক্লা স্পষ্ট জানান যে রেখা কোনওদিনই নিজেকে রাজনীতিক হিসেবে দেখেননি। ২০১২ সালে যখন রেখাকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়, তখন তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। রাজীব বলেন, ‘রেখা কোনোদিনই সেভাবে রাজনীতিতে নামতে চাননি। তিনি সংসদে আসতেন, চুপচাপ বসতেন এবং চলে যেতেন। তিনি একজন শিল্পী হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন এবং সেই মর্যাদাই বজায় রেখেছিলেন।’
সংসদে জয়া বচ্চন যেখানে সমাজবাদী পার্টির হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করেছেন এবং বারবার গর্জে উঠেছেন, সেখানে রেখার নীরবতা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজীব শুক্লার এই মন্তব্য ফের একবার প্রমাণ করল যে, রুপোলি পর্দার এই দুই কিংবদন্তি ব্যক্তিজীবনেও ঠিক কতটা ভিন্ন মেরুর বাসিন্দা।

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যদি কোনো সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে পিএইচডি করা যায়, তবে তা নিঃসন্দেহে জয়া বচ্চন এবং রেখার রসায়ন। আসলে পর্দার ‘সিলসিলা’ যেন আজও বাস্তব জীবনে এক অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন হয়ে রয়ে গিয়েছে। জয়া এবং অমিতাভের প্রেম ও বিয়ের গল্প ছিল অনেকটা শান্ত প্রবাহের মতো। কিন্তু সেই প্রবাহে ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে এল ‘দো আনজানে’ (১৯৭৬)। পর্দায় রেখা ও অমিতাভের রসায়ন এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠল যে, টিনসেল টাউনের অন্দরে কান পাতলেই গুঞ্জন শোনা যেতে লাগল প্রেম করছেন অমিতাভ-রেখা। তবে বিবাহিত, দুই সন্তানের বাবা অমিতাভ নিজ কর্তব্য থেকে পিছিয়ে আসেননি। প্রকাশ্যে এই প্রেম নিয়ে কোনওদিন কথা বলেননি বিগ বি। তবে ইনিয়ে-বিনিয়ে রেখা অনেক সময়ই অমিতাভের প্রতি ভালোবাসা জাহির করেছেন।