মালদার গাজোলের একলাখি গান্ধীমোড় সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় নবমীর চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল। মায়ের প্রতিমা থেকে সোনার অলঙ্কার হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে মণ্ডপে। শুধু তাই নয়, প্রতিমার সামনে রাখা একটি ছোট পুঁটুলিও নিখোঁজ হয়। তাতে আরও কিছু গহনা সুরক্ষিত ছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা যায় এ কোনও চোরের কাজ নয়, এর সঙ্গে জড়িত সিভিক ভলেন্টিয়াররা। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঘটনার পরই আয়োজকরা দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। সেখানে ধরা পড়ে বিস্ময়কর চিত্র। দেখা যায়, কর্তব্যরত অবস্থায় সিভিক ভলান্টিয়ারের পোশাক পরে থাকা দুইজন ব্যক্তি সঞ্জয় মণ্ডল ও গৌড় মণ্ডল প্রতিমার গা থেকে অলঙ্কার সরাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের সহযোগিতা করছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি অধীর মণ্ডল। এ দৃশ্য সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুজোর মণ্ডপে দেবীর অলঙ্কার চুরি যে দুই দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ারই করে থাকতে পারেন, তা ভেবে হতবাক সকলে। পুজোর নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁরাই এমন অপরাধে যুক্ত। এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে গাজোল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে, পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। তদন্তে নেমে অল্প সময়ের মধ্যেই সঞ্জয় মণ্ডল, গৌড় মণ্ডল এবং অধীর মণ্ডল এই তিনজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং চুরি যাওয়া অলঙ্কার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুজোর মণ্ডপে এ ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক বলেই জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, স্থানীয়দের প্রশ্ন মণ্ডপের নিরাপত্তার জন্য যে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিযুক্ত করা হল, তাঁরা কীভাবে এমন জঘন্য কাজ করতে পারলেন? দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর পরিবেশে এই ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভ দুই-ই বেড়েছে এলাকা জুড়ে। প্রসঙ্গত, সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শোনা গিয়েছে। তবে এমন অভিযোগ ওঠায় হতবাক পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয়রা।