Success Story: বাবা ছিলেন দর্জি। মা অন্যের জমিতে কাজ করতেন। সেই পরিবারের ছেলে আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করে হলেন আইএএস অফিসার। লড়াই করে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দিয়ে আইএএস হয়েছেন বিজয় অমৃতা কুলঙ্গে।
বাবা দর্জি ছিলেন, মা দিনমজুরির কাজ করতেন অন্যের জমিতে
মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিজয়। তাঁর শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে। বিজয়ের বাবার দর্জি ছিলেন। মা সংসার চালানোর জন্য অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করতেন। দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনির পর যেটুকু উপার্জন হত, তা দিয়ে কোনওক্রমে দিন চলত তাঁদের। তবে সংসারের এই আর্থিক অভাব সত্ত্বেও বিজয়ের পড়াশোনায় কোনো ঘাটতি আসতে দেননি বাবা-মা।
আর্থিক কারণে পড়তে পারেননি ডাক্তারি
বিজয় ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় দুর্দান্ত নম্বর পেয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে ডাক্তারি পড়ার (MBBS) সুযোগও পান। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে ডাক্তারি পড়ার খরচের বোঝা বহন করা তাঁর পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়।
শিক্ষকতা শুরু ও জীবনের বড় লক্ষ্যের পথে
পরিবারকে দ্রুত অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিজয় ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন (D.Ed) কোর্স সম্পন্ন করেন এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর পরিবারের আর্থিক অনটন কিছুটা কমলেও, বিজয় জানতেন যে তাঁর জীবনের লক্ষ্য আরও অনেক বড়।

UPSC-তে অনুপ্রেরণা ও স্বপ্নপূরণ IAS অফিসার হয়ে
স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি বিজয় নিজের পড়াশোনা থামিয়ে রাখেননি। পুণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন এবং পরবর্তীকালে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি রাজ্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রথমদিকের কয়েকটি ব্যর্থতা সত্ত্বেও তিনি দমে যাননি। নিজের জেদ ও কঠোর পরিশ্রমের শক্তিতে প্রথমে ‘সেলস ট্যাক্স ইনস্পেক্টর’ হিসেবে চাকরি পান। এরপর আরও একধাপ এগিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ‘তহসিলদার’ পদে নির্বাচিত হন। সেইসময় এক সিনিয়র অফিসারের অনুপ্রেরণায় ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের প্রস্তুতি শুরু করেন।