পাকিস্তানে হাফিজ সইদ যেস ডেরায় থাকে, সেখানে তার জঙ্গি শিবির লস্কর ই তৈবার নিজের সদস্যরাও তার সঙ্গে দেখা করতে এলে তাদেরও কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে যেতে হচ্ছে। বহু নিরাপত্তার স্তর পেরিয়ে মিলছে লস্কর ই তৈবা চিফ জঙ্গি নেতা হাফিজ সইদের দেখা। এমনই আটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত হাফিজ সইদকে ঘিরে রয়েছে। পাকিস্তানে ‘বন্দি’ হাফিজের নিরাপত্তা আগের থেকেও বাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।
মুম্বইতে ২০০৮ সালে পাকিস্তানের লস্কর ই তৈবার নারকীয় হামলায় হাফিজের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে ট্রায়াল ইন অ্যাবসেনশিয়া (অনুপস্থিত অবস্থায় কারোর বিরুদ্ধে মামলা)। আইনি এই মামলা অনুযায়ী, যদি হাফিজ সইদ এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তাকে যখনই ভারতে আনা হবে, তখনই তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। হাফিজ সইদ ছাড়াও আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮র হামলার ঘটনার ওই একইভাবে মামলা চলছে। এদিকে, পাকিস্তানে আইএসআই বাড়িয়ে দিয়েছে হাফিজের নিরাপত্তা। যে বাড়িতে হাফিজ রয়েছে, সেখান নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নিউজ ১৮র রিপোর্ট অনুসারে, আইবি গোয়েন্দা অফিসারদের মতে, এর আগে, বহুবার হাফিজকে খুন করার চেষ্টা দেখা গিয়েছে অতীতে। হাফিজ ঘনিষ্ঠ অনেকেই খুন হয়েছে, যার জেরেই তড়িঘড়ি আইএসআই হাফিজের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। জানা যাচ্ছে, হাফিজকে ঘিরে টার্গেট গত কয়েক মাসে বেড়ে গিয়েছে। যার জেরে হাফিজকে লস্করের ট্রেনিং ক্যাম্পেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না পাকিস্তানের নিরাপত্তার খাতিরে। শুধু তাই নয়, লস্করের যে জায়গায় উগ্রপন্থায় যুবকদের মগজধোলাই হয়, সেই ক্যাম্পেও হাফিজ যাচ্ছে না বলে খবর। আর এই সবই তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে তোলার জেরে হয়েছে। এর আগে, এই সমস্ত জায়গায় হাফিজের আনাগোনা ছিল।
এক গোয়েন্দা অফিসারকে উদ্ঋত করে রিপোর্ট বলছে,‘ অপারেশন সিঁদুরের পর, আর গত কয়েক মাসে তাকে বহুবার খুনের চেষ্টার ঘটনার পর, হাফিজ সইদকে বের হতে দিচ্ছে না আইএসআই।’ প্রসঙ্গত, পাকিস্তান দাবি করছে, লাহোরের কোট লখপত জেলে নাকি ‘বন্দি’ রয়েছে হাফিজ সইদ। তবে ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, জেলে নয়, লাহোরের মোহাল্লা জোহার এলাকার এক সেফ হাউজ-এ হাফিজকে রেখে দিয়েছে পাকিস্তান। যে সেফ হাউজকে কার্যত দুর্গের মতো করে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে শেহবাজ শরিফ, আসিম মুনিরের দেশ। আরও একটি রিপোর্ট দাবি করছে, লাহোরের মিঞা মীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বাড়িতে হাফিজকে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখানে তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

একদিকে, অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে যাওয়া তাদের জঙ্গি শিবিরকে ফের গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে লস্কর ই তৈবা, তারই মাঝে হাফিজ সইদকে কোনও জঙ্গি ট্রেনিং সেন্টারে দেখা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সে শুধু ভিডিয়ো কল-এ কথা বলে ক্যাডারদের সঙ্গে। তাও শুধু বড় মাপের বৈঠকেই এমন কল হয়, সেখানে কড়া নিরাপত্তা থাকে।