রাজ্যে পালাবদল হয়েছে, উঠেছে গেরুয়া ঝড়। তৃণমূলের শক্ত জমিতে ফুটেছে পদ্ম। অনেক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। তার মাঝেই তৃণমূলের বেশ কিছু তারকা প্রার্থীর মতো এবার পরাজিত হয়েছেন রাজ চক্রবর্তীও। তবে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের সময় তিনি যথেষ্ঠ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর সেই আত্মবিশ্বাসকে আর একটু উসকে দিয়েছিলেন স্ত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। সেদিন ভোট দিতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন তাঁর দিদি দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
আনন্দবাজার ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেবশ্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাজ ও শুভ, দু’জনেই বেশ কিছু ভুল মন্তব্য করে বসে। মা দুর্গার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা টানা মোটেই উচিত হয়নি।’
পাশাপাশি দেবশ্রী আরজি করের প্রসঙ্গও টেনেছেন। তিনি বলেন, ‘যে রাতে আরজি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে গোটা রাজ্যবাসী আকাশের দিকে তাকিয়েছিল, তার পরে যে ভাবে যা ঘটেছে— তৃণমূলের এই পতন তারই পরিণতি।’
দেবশ্রী বিজেপির সমর্থক, কিন্তু তা হলেও পরিবার তাঁর কাছে সব কিছুর আগে। তিনি জানান যে, তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগও পেয়েছিলেন, তবে পরিবারের কথা মাথায় রেখেই তিনি সরে আসেন।
দেবশ্রীর কথায়, ‘আমি মনে করি, আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ একান্তই আমার। আমি আর বোন রাজনীতি নিয়ে কখনও কথা বলি না। বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ার প্রস্তাব ছিল আমার কাছে। ইয়ালিনীর জন্মের এক দিন আগে শুভেন্দুবাবুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদানের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু, আমি যোগ দিইনি। কারণ, পরিবার আমার কাছে সবার আগে।’

তবে রাজ্যে পালা বদলের পর নোংরা আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়েছিল রাজকে। তাঁকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠেছিল। পরিচালকের দিকে কাদাও ছোঁড়া হয়েছিল। এই ঘটনায় ব্যথিত হন দেবশ্রীও। তিনি জানান তাঁর মা-বাবাও এই দৃশ্য দেখে বেশ কষ্ট পেয়েছিলেন। কারণ বিধায়ক হিসেবে রাজ যে যথেষ্ট পরিশ্রমী ছিলেন সেকথাও উঠে এসেছে দেবশ্রীর কথায়। তিনি বলেন, ‘আমি স্বচক্ষে দেখেছি, রাজ ব্যারাকপুরের জন্য কতটা খেটেছে। এতটা দূরত্ব। তবু যাতায়াত করে, বাড়ি ফিরে আবার অফিসের কাজ নিয়ে বসত।’