Security reduced for TMC leaders। বাড়ি থেকে সরছে প্রহরা! কল্যাণ-অরূপ-কুণালদের নিরাপত্তায় বড় কাটছাঁট

Spread the love

Security reduced for TMC leaders: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক সিদ্ধান্তের কথা জানাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিন কয়েক আগে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, কেউ যেন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা না-পান তা নিশ্চিত করতে হবে। তারপরেই ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁট শুরু হয়। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা কমেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বস্রোতীয় সাধারণ সম্পদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এবার আরও ১০ জনের বাড়ির নিরাপত্তা (হাউস গার্ড) তুলে নিল লালবাজার। তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে প্রাক্তন ডিজিপি-রাও। তালিকায় রয়েছেন ডিরেক্টর অব সিকিউরিটিও।

কাদের বাড়ির নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হল?

শনিবার এক নির্দেশিকা জারি করে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, তালিকায় থাকা ভিআইপিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মুল্যায়ন করা হয়েছে। কয়েক জনের প্রাণের ঝুঁকির মাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ নির্দেশিকায়। এদিন লালবাজার তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি তথা বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার, আইনজীবী সঞ্জয় বসু, রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশান্ত কিশোর পাণ্ডে, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি মনোজ মালব্য এবং প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি তথা বর্তমান ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি পীযূষ পাণ্ডে। এই ১০ জনের বাড়ির নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে।

সাধারণত, কোনও সাংসদ ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। ক‍ল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজীব কুমার তৃণমূলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদ। সেই মতো তাঁরা নিরাপত্তা পাবেন। এক সময় রাজীব কুমারের জন্য ধরনায় বসেছিলেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রাজীব কুমারেরই হাউস গার্ড তুলে নেওয়া হল। ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি পীযূষ পাণ্ডে আগে ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি ছিলেন। ফলে তিনি যে সিকিউরিটি পেতেন, তা ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি পদে আবার বদলি হওয়ায় সেই সিকিউরিটি পাবেন না। পূর্বতন সরকারে মন্ত্রী ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। মন্ত্রী থাকায় ‘ওয়াই’ ক‍্যাটেগরির নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু মন্ত্রী পদ চলে যাওয়ার কারণে আর কোনও নিরাপত্তা পাবেন না তিনি। সারদা মামলায় জামিন পাওয়ার পরে কুণাল ঘোষ আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁর উপর হামলা হতে পারে। সেই কারণে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জয়ী কুণাল আগে আদালতের নির্দেশে নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু এবারের বিধানসভা ভোটে জেতার পরে কুণাল ঘোষের সরকারিভাবে বিধায়ক পদের জন‍্য নিরাপত্তা পাওয়ার কথা। তাই আগের আদালতের নির্দেশে যে নিরাপত্তা তিনি পেতেন, সেটির আর কার্যকারিতা নেই। আগের শাসকদল বাকিদের যে নিরাপত্তা দিত, তাঁদের বেশিরভাগের হাউস সিকিউরিটি দরকার নেই বলেই তুলে নিতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার ২ দিন পরই নবান্নে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে ভিআইপিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভিআইপিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তারপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমানো হয়। এবার ১০ জনের বাড়ির নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *