Kolkata Metro Blue Line Latest Update: কলকাতা মেট্রোর ‘ব্লু লাইন’-এ সম্পূর্ণ পাতাল পথে স্টিলের থার্ড রেল সরিয়ে অত্যাধুনিক ও উচ্চ-পরিবাহী অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেল বসানোর কাজ সম্পন্ন হল। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, সেই নয়া ব্যবস্থার ফলে আগামিদিনে মাত্র ১৫০ সেকেন্ড বা আড়াই মিনিট অন্তর ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। একইসঙ্গে এই নতুন প্রযুক্তির হাত ধরে প্রায় ৫০ হাজার টন কার্বন নির্গমন কমবে বলে কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে।
কী এই অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেল প্রযুক্তি?
কলকাতা মেট্রোর শুরু থেকেই ট্রেন চালানোর জন্য বিদ্যুৎ পরিবহণের মাধ্যম হিসেবে ট্র্যাক বা লাইনের পাশে একটি বিশেষ থার্ড রেল ব্যবহার করা হতো, যা তৈরি ছিল ইস্পাত বা স্টিল দিয়ে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে স্টিলের চেয়ে অ্যালুমিনিয়াম অনেক বেশি কার্যকর।
নতুন এই উচ্চ-পরিবাহী অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেলের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা অত্যন্ত বেশি। এর ফলে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় অপচয় বা ট্রান্সমিশন লস একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপশি, লাইনে ভোল্টেজ ড্রপ হওয়ার সমস্যা থেকেও স্থায়ী মুক্তি মিলবে। এই পরিকাঠামো পরিবর্তনের ফলে ট্রেনের গতিবেগ এবং পরিচালন ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ ও শক্তি-সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।
১৫০ সেকেন্ডের লক্ষ্যমাত্রা: আরও কমবে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা
কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে প্রতিদিন লাখ-লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। অফিস টাইমে ট্রেনের ভিড় সামাল দিতে এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি বা হেডওয়ে (দুটি ট্রেনের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান) কমানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই অ্যালুমিনিয়াম থার্ড রেল প্রতিস্থাপনের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় ভবিষ্যতে মাত্র ১৫০ সেকেন্ড (আড়াই মিনিট) অন্তর ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ যাত্রীদের স্টেশনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। ট্রেনের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মেট্রোর যাত্রী বহন ক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

পরিবেশ রক্ষায় বিরাট অবদান: কমবে ৫০ হাজার টন কার্বন
কলকাতা মেট্রো রেলের এই আধুনিকীকরণ শুধুমাত্র যাত্রীদের সুবিধাই বাড়াবে না, বরং এটি অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব। নতুন এই শক্তি-সাশ্রয়ী সিস্টেমের মাধ্যমে আনুমানিক ৫০,০০০ টন কার্বন নির্গমন হ্রাস পাবে। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের এই আবহে কলকাতার বুকে দূষণমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা যায় বলে মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে।