মুখ্যমন্ত্রীকে ‘DA’ খোঁচা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর! শুভেন্দু বললেন…

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের মন্তব্যের পর। বুধবার সল্টলেকে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি এবং রাজ্য সরকারের ডিএ বৃদ্ধির বিষয়ে সরাসরি খোঁচা দেন। ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, রাজ্য সরকারকে উচিত সরকারি কর্মচারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

কী বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?

বুধবার সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোর্টে যাচ্ছেন। এসআইআর-এর জন্য এই লোক মরেননি। তারা ডিএ হতাশার জন্য মারা গিয়েছেন। তিনি তো এসআইআর-এর জন্য সুপ্রিম কোর্টে গেলেন, ডিএ-এর জন্য সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারতেন।’ তাঁর মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর এক ধরনের কৌশল হিসেবে দেখছেন। ডিএ বৃদ্ধির ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য

ডিএ আর বিচারাধীন বিষয় নেই। মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে ডিএ ক্লোজড চ্যাপ্টার। সল্টলেকে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ‘সাংবাদিক বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ডিএ মামলা এখনও বিচারাধীন। আমি ওনাকে বলতে চাই, এটা আর এখন বিচারাধীন বিষয় নয়। ইটস অ্যা ক্লোজড চ্যাপ্টার বাই দ্য সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। কীভাবে এরিয়ার দিয়ে ডিএ মেটাতে হবে, তার পুরো রূপরেখা সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বিচার ব্যবস্থাকে অপমান করেছে। মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ টাকা না দেন, তাহলে আইনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। গত ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা ১০০ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। বকেয়ার অংশ মেটাতে ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম নির্দেশ, ৩১ মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ টাকা দিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে। এরপরই ডিএ মেটানোর দাবিতে স্মারকলিপি জমা করতে নবান্নে গিয়েছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সেখানে অনুমতি না মেলায় তাঁরা ট্রাফিক গার্ডেই স্মারকলিপি দেন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘সাবজুডিস কোনটা, আর কোনটা জুডিশিয়ারি, সেটা বোঝা উচিত। রাজ্য সরকার বলছে আর্থিক সংকুলান নেই, অথচ এমন এমন প্রকল্পের ঘোষণা হচ্ছে, যার সঙ্গে শ্রমের কোনও বিষয় নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *