বেঙ্গালুরুতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত হয়েছে বাংলার ৭ পরিযায়ী শ্রমিকের। তাঁদের পরিবারের হাতে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। মঙ্গলবার মন্ত্রী বহরমপুর ব্লকের নগরাজাল পাঁচ পীরতলা ও হরিহরপাড়ার খিদিরপুর গ্রামে গিয়ে মৃত শ্রমিকদের স্বজনদের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দু’লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের খান, বিধায়ক নিয়ামত শেখ ও হাসানুজ্জামান। শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির অসহায়তার কথা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হলে তিনি কর্মসংস্থানের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ও দলীয় নেতৃত্ব পরিবারগুলোর পাশে আছেন। আজ তাঁর নির্দেশে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়েছে। শুধু সাহায্য নয়, ভবিষ্যতেও দল ও সরকার পাশে থাকবে। দুপুরে বহরমপুর সার্কিট হাউসে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক সেরে তিনি সরাসরি গ্রামাঞ্চলের উদ্দেশে রওনা দেন। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র এবং জেলা নেতৃত্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও। এরপর বিকেলে হরিহরপাড়া থেকে বেলডাঙা পর্যন্ত বিভিন্ন মৃত শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে চেক হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে বেঙ্গালুরুর এক শ্রমিক আবাসনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন সাতজন মুর্শিদাবাদের যুবক। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে একে একে সকলেই প্রাণ হারান। অধিকাংশই ছিলেন বাড়ির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁদের মৃত্যুর পর সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার অন্ধকার নেমে এসেছে পরিবারে। জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার জানান, দলের পক্ষ থেকে দেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকরা যে কোম্পানিতে কাজ করতেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিটি পরিবারকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা করে সাহায্য পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে পরিবারগুলি চরম অসহায় অবস্থায় আছে। হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ বলেন, ঘটনার পরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তাঁর নির্দেশেই দেহগুলি ফিরিয়ে আনা হয় এবং আজ ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়া হলো। ভবিষ্যতেও এই পরিবারগুলির পাশে প্রশাসন ও দল থাকবে।
