যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানে ইরানের বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তেহরানের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ পৌঁছানোর পর মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ মন্তব্য করেছেন।ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এখন হিমায়িত বা ফ্রোজেন অবস্থায়। শান্তি চুক্তি না হওয়ায় যেকোনো সময় সংঘাত শুরুর শঙ্কাও প্রবল। এমন অবস্থায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের পৌঁছানোর পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে সর্বশেষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ‘আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার চলমান প্রচেষ্টা’ নিয়ে আলোচনা হবে।তবে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ইসলামাবাদে ইরানের পর্যবেক্ষণ বা বক্তব্যগুলো পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। আব্বাস আরাঘচি কেবল পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এদিকে শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে পাকিস্তান যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলও। ইসলামাবাদ যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। প্রথম দফা আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স থাকছেন না এই সফরে। তবে আলোচনার অগ্রগতি হলে যেকোনো সময় ইসলামাবাদ যেতে প্রস্তুত রয়েছেন ভ্যান্স।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি ও ১২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা ছাড়া শেষ হয় বৈঠক।
এরপর হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দরগুলোতে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যা গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এর মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চেষ্টা করছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। সেই লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ও পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।