তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার পর থেকেই শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার আক্রমণের মুখে পড়ছেন হুগলির সাংসদ তথা টলিউড অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণ তাঁকে ‘গদ্দার’ থেকে শুরু করে ‘হুগলির ভূগোল না জানা’ মেয়ে বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এবার সেই ‘ভূগোল’ খোঁচা এবং কল্যাণের নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় দাদাগিরি করা নিয়ে পাল্টা নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন রচনা।
টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে কল্যাণের মুখের ভাষাকে ‘যৌনপল্লী’র সাথে তুলনা করার পাশাপাশি এবার তাঁর রাজনৈতিক ব্যর্থতা নিয়েও সপাটে প্রশ্ন তুললেন ‘দিদি নম্বর ১’।
‘নিজের এলাকা ছেড়ে আমার এলাকায় মাতব্বরি কেন?’
শ্রীরামপুরের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বারবার হুগলি লোকসভা এলাকায় এসে হস্তক্ষেপ করছেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রচনা। কল্যাণকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, ‘কল্যাণ ব্যানার্জি বারবার নিজের সাংসদীয় এলাকা ছেড়ে এসে আমার এলাকায় মাতব্বরি করে। উনি বলেন আমি নাকি হুগলির ভূগোল জানি না! আচ্ছা, আপনি তো সব জানেন দাদা, আপনি তো হুগলির ভূগোল খুব ভালোই জানেন। তাহলে নিজের ছেলেকে কেন উত্তরপাড়া থেকে জেতাতে পারলেন না?’
রচনার এই একটি মন্তব্যেই স্পষ্ট যে, তিনি আর পাঁচজন রাজনীতিবিদের মতো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না। বরং কল্যাণের নিজের ঘরের রাজনৈতিক সমীকরণকে টেনে এনে তাঁকে ব্যক্তিগত স্তরে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে চেয়েছেন অভিনেত্রী।

‘উত্তর কলকাতার যৌনপল্লীর মতো ভাষা ব্যবহার করেন কল্যাণ’
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কদর্য ভাষার তীব্র সমালোচনা করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, সংসদের ভেতরে কল্যাণ মহিলাদের যেভাবে অপমান করেন, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। মহুয়া মৈত্রকে কল্যাণের পুরনো আক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে রচনা বলেন, পার্লামেন্টের ভিতরে একজন সিনিয়র সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাষায় কথা বলছেন মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে! যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা উত্তর কলকাতার ব্রথেলে (যৌনপল্লী) ব্যবহার করা হয়। সেই শব্দ উনি চিৎকার করে-করে সংসদের মধ্যে ব্যবহার করে আক্রমণ করছেন।’
রচনার দাবি, যিনি একসময় একজন মহিলাকে (মহুয়া মৈত্র) এভাবে অপমান করেছিলেন, আজ মহুয়া ক্ষমতার লোভে তাঁর সঙ্গেই এক গাড়ি থেকে ওঠানামা করছেন! তৃণমূলের এই দুই হেভিওয়েট সাংসদের ‘নীতি’ নিয়ে তাই প্রকাশ্যেই উপহাস করেছেন রচনা।
তৃণমূল ছাড়ার পর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বাদ পড়েছেন দিদি নম্বর ১ থেকেও। প্রশ্নের মুখে রচনার জনপ্রিয়তা, এর মাঝেই নিজের দাম বোঝাতে চাইলেন হুগলির সাংসদ।