হরিয়ানার গুরুগ্রামের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, যৌন উত্তেজক ওষুধের ওভারডোজের ফলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের ঘর থেকে বিভিন্ন ধরনের শক্তিবৃদ্ধির ওষুধ উদ্ধারের পর তদন্তকারীদের এই ধারণা আরও জোরালো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত যুবকের নাম রোহিত লাল (২৯)। নাগপুরের বাসিন্দা রোহিত নয়াদিল্লিতে কর্মরত ছিলেন এবং গুরুগ্রামের সেক্টর-৫৩-এর একটি ফ্ল্যাটে একাই ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন সকালে তাঁর এক সহকর্মী প্রতিদিনের মতো অফিসে যাওয়ার জন্য তাকে ফোন করেন। রোহিত ফোন না ধরায় এবং ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপরই পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বিছানায় রোহিতের অচেতন দেহ পড়ে থাকতে দেখে। এরপর পরিষ্কার হয়, তাঁর শরীরে প্রাণ আর অবশিষ্ট নেই। পুলিশ জানিয়েছে, রোহিতের ঘর থেকে শক্তিবৃদ্ধির ওষুধপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ ইতিমধ্যে দেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে কী বলছে পুলিশ?
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন রোহিত তার বাগদত্তাকে নিজের ফ্ল্যাটে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই তরুণী ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রোহিত। মনে করা হচ্ছে, সঙ্গিনীর সঙ্গে মিলনের জন্যই যৌন উত্তেজক কোনও ওষুধ খেয়েছিলেন রোহিত। তদন্তকারীদের দাবি, সঙ্গিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার উদ্দেশ্যে রোহিত সম্ভবত ওষুধের ওভারডোজ নিয়েছিলেন। এর প্রভাবে তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ কেবল ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পরেই জানা যাবে। তাঁরা সব দিক খতিয়ে দেখছেন। সেক্টর ৫৩-এর এসএইচও সতেন্দ্র রাওয়াল জানান, ‘আমরা ভিসেরা এবং উদ্ধার হওয়া ওষুধ পরীক্ষার জন্য এফএসএল-এ পাঠিয়েছি। ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।’
