বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া মোটের উপর নিরুপদ্রবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোটকে সামনে রেখে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে ‘ঘটনাবিহীন’ রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর সেই লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে আরও ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল কমিশন। ইতিমধ্যেই ভিনরাজ্যে থেকে এই পর্যবেক্ষকরা আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই তাঁদের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
এবারের নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন, যা অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় দফায় সংখ্যা আরও বাড়ানো হল। স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা প্রত্যেকেই ভিনরাজ্য থেকে আসছেন। এই অতিরিক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১১ জন পার্সোনাল সিকিওরিটি অফিসার বা পিএসও চেয়ে রাজ্যের নিরাপত্তা অধিকর্তা মনোজ ভার্মাকে চিঠি দিয়েছে সিইও দফতর। একই সঙ্গে এই বিষয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও কপি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বলে রাখা ভালো, ভোট ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল ৮৪, যা এই নতুন সংযোজনের ফলে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯৫-এ। সূত্রের খবর, এই সংখ্যা ১০০-ও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বাকি ১৪২টি আসনে ভোট রয়েছে আগামী বুধবার, ২৯ এপ্রিল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় কলকাতা, ভাঙড়, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে ভোটগ্রহণ হবে। এই দফাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী ও বিরোধী নেতাদের ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে। ফলে এই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের অতি উত্তেজনা প্রবণ বুথ ও এলাকাগুলোতে ভিন রাজ্যের দক্ষ পুলিশ কর্তাদের পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রাখতে চাইছে কমিশন। পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্য থেকে এই পর্যবেক্ষকরা আসছেন। তাঁদের দায়িত্ব থাকবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা এবং কোনওরকম অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ দ্রুত কমিশনের নজরে আনা। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন যে কোনওরকম আপস করতে নারাজ, সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে এই সিদ্ধান্তে।

তবে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও নতুন করে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে রাজ্যে থাকা ২৫৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি অংশকে প্রথম দফার স্ট্রং রুমের পাহারায় রাখা হয়েছে। বাকি বাহিনীকে দ্বিতীয় দফার জেলাগুলোতে সুনিপুণভাবে মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সিইও দফতরে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র এবং ওড়িশা পুলিশের আইজি হীরালালের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘ বৈঠক হয়। মূল লক্ষ্য একটাই- বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কড়া নজরদারি রাখা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী করা। নিরাপত্তার এই বাড়তি বর্ম কী পারবে দ্বিতীয় দফায় প্রথম দফার মতোই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।