পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও খবরের শিরোনামে ছিলেন আশা ভোঁসলে। তাঁর বাস্তব জীবন কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। ছোটবয়স থেকেই নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। বলিউডের প্রবীণ গায়িকা তাঁর কেরিয়ারে পর্দে মে রহেনে দো, চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো, উড়ে জব জব জুলফে তেরি-র মতো অনেক আইকনিক গান উপহার দিয়েছেন। আশার গান অনেক অভিনেত্রীর কেরিয়ারেই উড়ান এনেছিল। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার রেকর্ড ঝুলিতে পুড়েছেন আশা ভোঁসলে।
১৬ বছর বয়সে, দিদি লতার সেক্রেটারিকে বিয়ে করেছিলেন আশা:
বাবার অকাল মৃত্যুর কারণে, লতা মঙ্গেশকর মাত্র ১৪ বছর বয়সে কাজ শুরু করেছিলেন, আশার বয়স তখন মাত্র ৯। পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তাঁর কাঁধে বর্তায়। লতা যখন সংসারের দায়িত্ব নিচ্ছিলেন, তখন তিনিও আশা থেকে এটিই প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে আশা শৈশব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা প্রকৃতির ছিলেন। তিনি কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা নিয়ম মেনে চলা পছন্দ করতেন না। তিনি সমস্ত বন্ধন ভেঙে একটি ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে, আশা তাঁর চেয়ে অনেক বছর বড় গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেছিলেন। আশার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর, যখন গণপতরাওয়ের বয়স ছিল ৩১ বছর। এই গণপত রাও ছিলেন আবার লতা মঙ্গেশকরের সচিব। এই পরিস্থিতিতে তিনি লতার বাড়িতে আসতেন। সেখানেই তিনি এবং আশা একে-অপরের প্রেমে পড়েন এবং পালিয়ে বিয়ে করেন।
তবে আশা এবং গণপত রাওয়ের বিয়ে নিয়ে খুব রেগে গিয়েছিলেন বড় বোন লতা। এক সাক্ষাৎকারে আশা জানিয়েছিলেন, দিদি এই সম্পর্ককে মেনে নিতে পারেননি। এরপর তাঁর সঙ্গে লতাজির মধ্যে দূরত্ব বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দুজনের মধ্যে কোনও কথাও হয়নি। এমনকী আশা ভোঁসলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

আশা-গনপতের বিয়েতে সমস্যা:
সূত্রের খবর, শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক হিংসার শিকার হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। এ কারণেই দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবসান ঘটে। 1960 সালে তাঁরা উভয়ই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরে, আশা ভোঁসলে ১৯৮০ সালে সুপরিচিত সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে বিয়ে করেছিলেন। রাহুল দেব বর্মন আবার ছিলেন আশার থেকে চার বছরের ছোট। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি সেইসময়। আশা ভোসলের দ্বিতীয় স্বামী রাহুল দেব বর্মন ১৯৯৪ সালে মারা যান।
আশার সন্তানেরা:
আশা ভোঁসলের প্রথম বিয়ে থেকে তিনটি সন্তান রয়েছে- হেমন্ত, বর্ষা এবং আনন্দ। তাদের মধ্যে দু’জন, হেমন্ত (২০১৫) এবং বর্ষা (২০১২) মারা গিয়েছেন। আশা ভোঁসলের ব্যক্তিগত জীবন বেশ অস্থির ছিল। তবে এই ওঠাপড়া কখনোই তাঁর কেরিয়ারে ছাপ ফেলতে পারেননি। সুরের জাদুতে আট থেকে আশি, সকলের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে পরলোক গমন করলেন গায়িকা।