ক্যালেন্ডারের পাতায় চোদ্দ দিন পার। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ক্ষত এখনও দগদগে, প্রিয় বাবিনকে হারিয়ে টলিউড শোকস্তব্ধ। কিন্তু দু’সপ্তাহ পরও এই মৃত্যু তদন্তের মামলা বড়ই ধূসর। পরিচালক পারোমিতা মুন্সীর সাম্প্রতিক পোস্ট যেন সেই জমাট বাঁধা অন্ধকারকেই বিদীর্ণ করল। যে প্রোডাকশন হাউসের শুটিংয়ে গিয়ে এই পরিণতি, তাদের তরফে আজও মেলেনি ন্যূনতম দুঃখপ্রকাশ, নেই কোনো দায় স্বীকার। বরং দায়সারা জবাব দিয়েই ক্ষান্ত লীনা-শৈবালরা। আর্টিস্ট ফোরামের চিঠিরও উপযুক্ত জবাব দেয়নি তাঁরা। অথচ শুরু থেকেই একের পর এক মিথ্যাচার। পারোমিতা দাবি করেন, লীনা যেমনটা বলেছিলেন হাঁটু জলে শ্যুট তা নয়, চিত্রনাট্যে নাকি নায়কের মৃত্য়ুদৃশ্যের শ্যুটিং করার কথা ছিল। যেই স্ক্রিপ্ট অনেকের কাছেই রয়েছে।
বিপজ্জনক মোহনা আর নিখোঁজ ড্রোন
পারোমিতার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সমুদ্রের যে গভীর জলে সিনটি শুট করা হচ্ছিল, তা ছিল কার্যত মৃত্যুকূপ। ভরা কোটালের সময় মোহনার বিপজ্জনক চরে কোনও পুলিশি অনুমতি বা সেফটি মেজার ছাড়াই চলছিল ক্যামেরা। তিনি আগেই দাবি করেছেন, রাহুলের চরিত্রের (উজান)-এর মৃত্যুদৃশ্য নাকি শ্যুট হওয়ার কথা ছিল ওখানে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাহুল যখন তলিয়ে যাচ্ছেন, তখনও ড্রোন ক্যামেরা চলছিল। কিন্তু সেই ড্রোনের ফুটেজ গেল কোথায়? কেন আজও সেই অকাট্য প্রমাণ চেপে রাখছে প্রোডাকশন হাউস? ওড়িশা পুলিশের মন্থর গতির আড়ালে সত্যটা কি তবে বালিচাপা পড়ে যাবে?
ভিক্টিম ব্লেমিং ও ‘আইটি সেল’-এর আস্ফালন
রাহুলের মৃত্যু তদন্তের বদলে একদল মত্ত হয়েছে তাঁর অতীত খুঁড়তে, অভিযোগ পরিচালক পারোমিতা মুন্সীর। মৃত মানুষের চরিত্রে কালি ছিটিয়ে কি অপরাধীর গাফিলতি আড়াল করার চেষ্টা চলছে? এর মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় গজিয়ে ওঠা নামগোত্রহীন কিছু ফেক পেজ আর ‘এআই বোট’ প্রোফাইল থেকে শুরু হয়েছে ‘আহা-উহু’। সিরিয়াল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শোকপ্রকাশ চলছে, কিন্তু যে প্রাণটা গেল তার বিচার নিয়ে সবাই মৌন। আফসোস পারোমিতার।

অভিভাবকের মৌনতা বনাম ‘DESU7’-এর ধামাকা
প্রশ্ন উঠেছে ইন্ডাস্ট্রির অন্দর থেকেও। পারোমিতা মুন্সীর প্রশ্নটি বিঁধছে তীরের মতো— যখন ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কেউ জেনেশুনে অপরাধ করে ঘাপটি মেরে বসে থাকে, তখন ‘অভিভাবক’রা কেন চুপ? প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে যে হাস্যকর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তার আড়ালে কি আসলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল?
সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হলো, রাহুলের অকালমৃত্যু আজ যেন এক গৌণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মেগাস্টার দেবের আসন্ন প্রজেক্ট ‘DESU7’। চিত্রনাট্য থেকে পরিচালনা, প্রযোজনা— সবটাই যখন ‘মেগাস্টার’ দেবের কাঁধে, তখন চারদিকে অভিনন্দন আর হাততালির ফোয়ারা। পারোমিতা মুন্সীর ভাষায় এই ‘স্লো ক্ল্যাপ’ আসলে এক গভীর বিদ্রূপ।