‘চিনের উপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।’ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য চিন নিজেই দায়ী। সম্প্রতি চিন বিরল খনিজ এবং ভূমিজ সম্পদের রফতানির উপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। আর তারপরেই গত ১০ অক্টোবর বেজিংয়ের উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
শুক্রবার ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি টেকসই নয়, কিন্তু সংখ্যাটা এটাই। তারা আমাকে এটি করতে বাধ্য করেছে।’ ট্রাম্প আরও নিশ্চিত করেছেন, তিনি দুই সপ্তাহের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তাঁর ধারণা এই বৈঠকেই চিনের সঙ্গে সবকিছু মিটমাট হয়ে যাবে। এর আগে এই বৈঠক অনিশ্চিত বলে ইঙ্গিত করেছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, চিনের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের একটি ন্যায্য চুক্তি দরকার, চুক্তিটা অবশ্যই ন্যায্য হতে হবে।’ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছি। যদি আমাদের শুল্ক না থাকত, তাহলে আমরা শূন্যস্থানে পরিণত হতাম।’
গত সপ্তাহে ট্রাম্প চিনা পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তিনি আগামী ১ নভেম্বর থেকে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রফতানির উপর নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেন। যা বর্তমান শুল্ক-ছাড়ের সময়সীমা শেষ হওয়ার নয় দিন আগে কার্যকর হবে। চিনের পক্ষ থেকে বিরল খনিজ উপাদান রফতানিতে হঠাৎ কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিক্রিয়াতেই এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদনে অত্যাবশ্যক এই উপাদানগুলির বাজারে চিনের একাধিপত্য রয়েছে। এই খনিজগুলির স্মার্টফোন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান, সবকিছু তৈরিতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বলে রাখা ভালো, বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর তৈরিতে ব্যবহৃত চৌম্বক ধাতুর প্রায় ৭০ শতাংশই আসে চিন থেকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোন বিদেশি প্রতিষ্ঠান যদি এমন কোন পণ্য রফতানি করতে চায় যাতে সামান্য পরিমাণও দুর্লভ খনিজ রয়েছে, তাহলে তাদের চিনা সরকারের অনুমোদন নিতে হবে ও সেই পণ্যের ব্যবহারের উদ্দেশ্যও জানাতে হবে।এদিকে মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘এটা চিনের বিরুদ্ধে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই নয়, এটা পুরো মুক্ত বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তারা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে রীতিমতো তাক করেছে। আমরা এটা মেনে নেবো না।’ অন্যদিকে চিন জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা করে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করছে। চিনা বাণিজ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, যদি রফতানি লাইসেন্সের আবেদন সঠিক হয় ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হয়, তাহলে তা অনুমোদিত হবে।
