Mamata Banerjee: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে ফ্রিজ করে দেওয়ার ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র হুলুস্থুল। এই নাটকীয় পরিস্থিতির মাঝেই শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে আগামী উপনির্বাচন সংক্রান্ত দলের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) তাঁর প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রটিতে তাঁরা কংগ্রেসের (Congress) ‘সিস্টার পার্টি’ বা সহযোগী দলটিকে সমর্থন করবেন। তবে অপর কেন্দ্র রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত কী হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে জানানো হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে চার মাস আগে যে প্রতীক নিয়ে দল জয়ী হয়েছিল, তা হঠাৎ করে বেআইনি ঘোষণা করে দেওয়া সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট ও গণতন্ত্রের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। নির্বাচন কমিশন সরাসরি বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে বলেও এদিন মন্তব্য করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, তাঁদের বারবার বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অন্তর্বর্তী নির্দেশকে তিনি বেআইনি ও ‘ডার্টি গেম’ আখ্যা দিয়ে সাফ জানিয়ে দেন, যে তাঁরা আইনি লড়াই লড়বেন এবং কোনওভাবেই মাথানত করবেন না। প্রথমে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পর এবার সুকৌশলে নাম ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি তৃণমূলের অপর শিবিরকে বিজেপি (BJP)-র ‘এ টিম’ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তারা আদতে তৃণমূলকে ভালোবাসে না বলেই এমন চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেন।
ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর লক্ষ্যেই এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে সমর্থন করার কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘অন্যায় ভাবে কাজ করল। এখন মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পেরিয়ে গেছে। কাল প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন তার আগে এটা করা হল। এত নোংরা খেলা কেন? আমরা বিজেপির কাছে মাথানত করব না। যতদিন বেঁচে থাকব, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাকে তো প্রায়ই হাউস অ্যারেস্ট করে রেখেছে। আমি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ব না। উপনির্বাচনের জন্য আমরা সিদ্ধান্ত মেনেছি। নন্দীগ্রামে আমরা কংগ্রেসকে সমর্থন করবো।’ উপনির্বাচনের জন্য কমিশনের নির্দেশ মেনে বিকল্প নাম বা প্রতীকের পথে হাঁটলেও দলীয় স্বীকৃতি ও মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই জারি রাখার বার্তা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতীক হারানোর জেরে তৃণমূল শিবিরের এই অবস্থান পরিবর্তন এবং কংগ্রেসের প্রতি হঠাৎ নরম মনোভাব রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে, যা আগামীদিনের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
