সিন্ধুর জল নিয়ে যখন পাকিস্তান ক্রমেই ভারতের বিরুদ্ধে হুমকি, হুঁশিয়ারি জারি রাখছে, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে যখন পাক সংসদে ফজলুর রহমান সুর চড়াচ্ছেন, তখন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) থেকে গর্জন উঠল, ‘পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়।’
সিন্ধুর জল নিয়ে পাকিস্তানের মন্ত্রী মুসাদিক মালিক যখন ‘ হাত কেটে’ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন দিল্লিকে তাক করে, তখন পাকিস্তানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে পিওকের অন্দরে ক্রমেই রোষ বাড়ছে। সদ্য পাকিস্তানের মন্ত্রী মুসাদিক বলেছেন,’ একটি কল রয়েছে যা প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বলছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জলও যেতে দেবেন না। যারা আমাদের জলের ভাগের উপর দাবি করবে, আমরা তাদের হাত কেটে ফেলব।’ এদিকে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সদ্য রাওয়ালকোটের ইদগায় এক সভা থেকে পাকিস্তানের প্রশাসন বিরোধী প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে। সেখানের সভায় পিওকের নেতা সর্দার আলম খান বলেন, ‘ ওরা বলছে, কাশ্মীরিদের রেশন বন্ধ করবে। আমি বলছি, তোমাদের রেশনের দরকার নেই। আমাদের প্রয়োজন রয়েছে তোমাদের কাছে। এমন না হয়ে যায়, যে বাকি রাস্তা খুলে যায় আর তোমরা আমাদের পায়ে পড়তে হয়, আমাদের কাছে আর্জি জানাতে হয়.. ।’ ‘বাকি রাস্তা খোলা’ নিয়ে এই ইঙ্গিতবহ বার্তার সঙ্গেই তিনি বলেন,’ এখানে কোনও স্বৈরাচার নেই। যদি কোথাও স্বৈরাচারী থাকেন, তাহলে আমরা তাঁকে মানিনা, কাশ্মীরের মানুষ কোনও স্বৈরাচারীকে মানেনা।’ এরপর সুর চড়িয়ে তিনি বলেন,’কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়। কাশ্মীর পাকিস্তানের সাম্রাজ্যের অংশ নয়। … মানুষকে ন্যায় দিন, মানুষকে শিক্ষা দিন, সসম্মানের জীবন দিন।’
প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীর আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভের ঘটনাটি ঘটেছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী আইনের আওতায় পাকিস্তানি প্রশাসন সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও এই আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

সদ্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাশ্মীরিদের নিয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেন। রাওয়ালকোটে হওয়া সদ্য এই প্রতিবাদ সভায় পাকিস্তান বিরোধী এই নয়া বক্তব্য, পাকিস্তানি মন্ত্রীর সেই বিতর্কিত মন্তব্যের পরই আসে। এর আগে, ওই বিতর্কিত মন্তব্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেছিলেন যে রাওয়ালাকোট ও মিরপুরের বাসিন্দারা ‘প্রকৃত কাশ্মীরি নন।’ এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পিওকের বহু বাসিন্দা। অন্যদিকে, খোয়াজা আসিফের মন্তব্য ঘিরে প্রতিবাদ জানান পাকিস্তানের শাসকপক্ষের অন্য শরিক পিপিপির নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো। এদিকে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের মধ্যেই সেখানে খাবারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ। যে ঘটনায় আরও ক্ষোভ বাড়ছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে।