WB Rain Forecast on 29 June। ভ্যাপসা গরমে মাঝে কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

Spread the love

বর্ষা ক্যালেন্ডারে অনেকটাই এগিয়ে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে এখনও দেখা মিলছে না চেনা ছন্দের টানা বৃষ্টির। উত্তরবঙ্গে যেখানে একের পর এক ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত, সেখানে দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে এখনও ভুগতে হচ্ছে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতার অস্বস্তিতে। তবে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সাময়িক স্বস্তির আশা দেখাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলির জন্য জারি করা হয়েছে কড়া সতর্কতা।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার কলকাতার আকাশ সারাদিন আংশিক মেঘলা থাকবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো হাওয়ারও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে খোলা জায়গায় না থাকার এবং বজ্রগর্ভ মেঘ দেখা দিলে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। যদিও এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হবে না, তবুও তাপমাত্রা কিছুটা কমে ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বর্ষা কার্যত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দার্জিলিং জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় জারি করা হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পংয়েও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বর্ষণের জেরে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পঙের ধসপ্রবণ এলাকায় পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোথাও ভূমিধস বা রাস্তা বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তরবঙ্গে সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা এবং শক্তিশালী জলীয় বাষ্পের প্রবাহের কারণেই সেখানে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা এখনও পুরোপুরি সক্রিয় না হওয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। তবে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গেও বর্ষা ধীরে ধীরে জোর পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ততদিন পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা মেনে চলার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেটের উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *