Aparupa Poddar’s Husband Arrested। এনআইএ-র জালে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ অররূপা পোদ্দারের স্বামী তথা কাউন্সিলর সাকির আলি

Spread the love

রামনবমীকে কেন্দ্র করে রিষড়ায় সংঘটিত অশান্তির ঘটনায় তদন্তে বড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ঘটনার প্রায় তিন বছর পর মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তিনি আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী। এই সাকির আলি রিষড়া পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারী দলের সদস্যরা রিষড়ায় সাকির আলির বাড়িতে পৌঁছন। অভিযানের আগে গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। বাড়ি ঘিরে রাখেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। এরপর এনআইএ-র আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে সাকির আলিকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রামনবমীর অশান্তি মামলার তদন্তে সাকির আলির ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে। সেই কারণেই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রিষড়ায় রামনবমী উপলক্ষে শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং ব্যাপক অশান্তির ঘটনায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ। গত কয়েক বছরে এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং ধারাবাহিকভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবারের এই গ্রেপ্তারিকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সাকির আলি স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ এবং তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত কাউন্সিলর। পাশাপাশি তিনি আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী হওয়ায় ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এই গ্রেপ্তারির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অপরূপা পোদ্দারও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। এনআইএ সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার হওয়া সাকির আলিকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রামনবমীর অশান্তির ঘটনায় জড়িত আরও ব্যক্তি ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *