Yasin Malik। ৩৬ বছর পর কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স ধর্ষণ-খুন মামলায় ইয়াসিন মালিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Spread the love

কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাটকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার ৩৬ বছর পর বড় পদক্ষেপ নিল জম্মু ও কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)। সোমবার শ্রীনগরের বিশেষ টাডা (সন্ত্রাসবাদ ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধ) আদালতে ৭৩৭ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। চার্জশিটে নিষিদ্ধ ঘোষিত জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ)-এর প্রধান মহাম্মদ ইয়াসিন মালিক এবং সংগঠনের আরেক সদস্য খুরশিদ আহমেদ চালকুকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এসআইএ জানিয়েছে, তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে সরলা ভাটের হত্যা কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ ছিল না। এটি ছিল কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী অভিযানের অংশ, যার উদ্দেশ্য ছিল ভয় সৃষ্টি করে তাদের উপত্যকা ছাড়তে বাধ্য করা। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, সরলা ভাটকে ‘মুখবির’ বা তথ্যদাতা বলে যে অভিযোগ ছড়ানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

চার্জশিট অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে জেকেএলএফের তৎকালীন ‘চিফ কমান্ডার’ ইয়াসিন মালিকের নেতৃত্বে এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে খুরশিদ আহমেদ চালকু, আবদুল হামিদ শেখ, মহাম্মদ ইউসুফ সোফি ওরফে ইদ্রিস এবং গুলাম মহাম্মদ টাপলু। শেষের তিনজন ইতিমধ্যেই মারা গেছে। অন্যদিকে খুরশিদ চালকু বর্তমানে পলাতক এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওজেকে)-এ আত্মগোপন করে আছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তাঁর বিরুদ্ধে পলাতক ঘোষণার আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ইয়াসিন মালিক বর্তমানে অন্য একটি সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে দিল্লির তিহার জেলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছে। তদন্তে ভারতীয় দণ্ডবিধির তৎকালীন রণবীর পেনাল কোডের হত্যা, অপহরণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ নষ্টের ধারার পাশাপাশি টাডা আইন এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৯৯০ সালের ১৫ এপ্রিল শ্রীনগরের সৌরায় অবস্থিত শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এসকেআইএমএস)-এ কর্মরত ২৭ বছরের নার্স সরলা ভাটকে তাঁর হস্টেল থেকে অপহরণ করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, বন্দিদশায় তাঁকে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন নিগ্রহের শিকার হতে হয়। পরে গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁকে। তাঁর দেহ শ্রীনগরের মালবাগ এলাকায় ফেলে রেখে যায় জেকেএলএফ, সঙ্গে রাখা হয় একটি চিরকুট, যাতে তাঁকে ‘মুখবির’ বলে দাবি করা হয়।

জঙ্গি তৎপরতার চরম সময়ে ভয়, নীরবতা ও সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় এই মামলার তদন্ত কার্যত থমকে ছিল। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক নলিন প্রভাত মামলাটি এসআইএ-র হাতে তুলে দিলে তদন্তে নতুন গতি আসে। এরপর শ্রীনগরের আটটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ফরেনসিক তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্তকারীরা। সেই সব তথ্যের ভিত্তিতেই ৩৬ বছর পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এসআইএ জানিয়েছে, অতীতের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলিরও পুনর্তদন্ত চলছে। সেই তালিকায় রয়েছে ১৯৮৯ সালে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নীলকান্ত গঞ্জু হত্যাকাণ্ডের মামলাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *