পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া রিফাইনারিতে মঙ্গলবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ন্যাফথা বহনকারী একটি পাইপলাইনে আগুন লেগে অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তাঁদের ১৪ জনকে তাম্রলিপ্ত সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের কলকাতায় রেফার করা হয়েছে। এদিকে পাইললাইনটি রেললাইন সংলগ্ন হওয়ায় পাঁশকুড়া লাইনে রেল চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে রিফাইনারির ন্যাফথা পরিবহণকারী পাইপলাইনে আচমকা আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পাইপলাইন থেকে দাউদাউ করে শিখা বের হতে থাকে। ঘটনাস্থলে তখন কর্মরত একাধিক শ্রমিক আগুনে দগ্ধ হন। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা এতটাই ছিল যে দূর থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে দেয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ, দমকলকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়। আহত শ্রমিকদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে তাঁদের হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর রিফাইনারি চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যাতে উদ্ধার ও তদন্তের কাজে কোনও বিঘ্ন না ঘটে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পাইপলাইনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, গ্যাস লিক বা অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার জেরে শিল্পাঞ্চল জুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রিফাইনারির মতো স্পর্শকাতর শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।