সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির দিকে পালটা তোপ রাজস্থান হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির

Spread the love

রাজস্থান হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মা তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সন্দীপ মেহতার তোলা একাধিক অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেন। প্রথমবার প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়ে বিচারপতি শর্মা অভিযোগগুলিকে ‘অসত্য, ভিত্তিহীন এবং তথ্যহীন’ বলে খারিজ করেছেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিদ্বেষের কারণেই এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযোগের জবাব এবং তার সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি ইতিমধ্যেই ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে জমা দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে এই বিরোধ নিয়ে একাধিক খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই তিনি এই বিবৃতি দিয়েছেন বলে জানান বিচারপতি শর্মা। তাঁর আবেদন, প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যম, আইনজীবী মহল এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই যেন সংযম বজায় রাখেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সন্দীপ মেহতা গত ২, ১০ এবং ১৭ অগস্ট তারিখে তিনটি চিঠি লিখে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, রাজস্থান হাইকোর্টে প্রশাসনিক কার্যকলাপের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য অন্য কোনও হাইকোর্ট থেকে স্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হোক। পাশাপাশি বিচারপতি শর্মাকে রাজস্থান থেকে বদলি করারও আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

বিচারপতি মেহতার অভিযোগের তালিকায় ছিল প্রশাসনিক অব্যবস্থা, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং পক্ষপাতিত্বের মতো গুরুতর বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মাস্টার অব দ্য রোস্টার’ হিসেবে পাওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিচারপতি শর্মা কিছু মামলা বাছাই করে নিজের বেঞ্চে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি ‘ধনী ও প্রভাবশালী’ মামলাকারীদের সুবিধা করে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি।

শুধু বিচার সংক্রান্ত বিষয় নয়, হাইকোর্টের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি মেহতা। যোধপুরের প্রধান বেঞ্চের কাজকর্ম এবং জয়পুরে আয়োজিত তিন দিনের একটি সম্মেলন-সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যকারিতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বিচারপতি শর্মা জানিয়েছেন, তিনি প্রমাণ-সহ প্রতিটি অভিযোগ খণ্ডন করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে চান না তিনি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের অনুমতি পাওয়ার পর ‘সঠিক সময়ে’ সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার কথাও জানিয়েছেন।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, কোনও বসে থাকা বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সেটিকে সত্য বা প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না। যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত বিচারপতিকে নিজের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *