‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে এবার সেবকে ছয় লেনের বিকল্প সেতু তৈরির কাজ এগোল। এই সেতু হবে পুরনো করোনেশন সেতুর বিকল্প। সেতুর পাশাপাশি তৈরি হবে সংযোগকারী রাস্তাও। এই প্রকল্পের জন্য টেন্ডার ডেকেছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এনএইচএআই। প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.৮৫ কিলোমিটার। সেতু এবং সংযোগকারী রাস্তা তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৮৪৪ কোটি টাকা। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানিয়েছেন, শুক্রবারই এনএইচএআই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আগের পরিকল্পনায় চার লেনের সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়। এখন সেখানে ছয় লেনের সেতু তৈরি হবে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্থা এই টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে। সরকার দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করতে চায়। এরপর শুরু হবে নির্মাণকাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাজ শুরু হওয়ার তিন বছরের মধ্যে নতুন সেতু চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।
সাংসদ রাজু বিস্তার দাবি, সেবকে বিকল্প সেতুর দাবি বহু দিনের। নতুন সেতু তৈরি হলে শুধু ডুয়ার্সের সঙ্গে শিলিগুড়ির যোগাযোগই সহজ হবে না। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগ আরও দ্রুত হবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের পিছনে সাধারণ যোগাযোগের পাশাপাশি বড় নিরাপত্তার কারণও রয়েছে। সেবক এলাকা ‘চিকেনস নেক’-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সরু ভূখণ্ডের মাধ্যমেই দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ রয়েছে।
এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। চিন, নেপাল এবং বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে দ্রুত সেনা ও রসদ পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনও বেড়েছে। তাই বিকল্প এবং শক্তিশালী সেতুর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। পুরনো করোনেশন সেতুর ইতিহাসও বেশ পুরনো। ১৯৪১ সালে তিস্তা নদীর উপর এই সেতু তৈরি হয়। সেই সময় ডুয়ার্স ও শিলিগুড়ির মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তুলতে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। পণ্যবাহী ট্রাক, বাস এবং অন্যান্য ভারী যান চলাচলও বেড়েছে। ফলে পুরনো সেতুর উপর চাপ বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সেতুটির বয়স। ২০১১ সালে করোনেশন সেতুতে ফাটল ধরা পড়ে। এরপর নিরাপত্তার কারণে ১০ টন বা তার বেশি ওজনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফলে সমস্যা আরও প্রকট হয়। একদিকে ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্যা। অন্যদিকে ছিল সামরিক ও কৌশলগত প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে সেবকে দ্বিতীয় একটি সেতুর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনও হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, নতুন সেতু তৈরি হলে যানজট কমবে। পুরনো সেতুর উপর চাপ কমবে। ডুয়ার্স ও শিলিগুড়ির মধ্যে যোগাযোগ আরও নিরাপদ হবে।