রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই টলিউডের অন্দরের জমে থাকা ক্ষোভ আর ফিসফাস এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করল। গত কয়েক বছর ধরে স্টুডিয়োপাড়ার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া রাজনৈতিক খবরদারি এবং স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মুখ খুললেন প্রথম সারির অভিনেত্রী পায়েল সরকার। বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করলেন, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হওয়ার কারণে কীভাবে গত কয়েক বছরে টলিপাড়ার বহু প্রতিভাবান শিল্পীকে কোণঠাসা (Cornered) করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নিজের ক্যারিয়ারের এক অন্ধকার অধ্যায়কে সামনে এনে পায়েল জানান, কীভাবে বড় বড় প্রজেক্ট থেকে শেষ মুহূর্তে তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে জায়গা দেওয়া হয়েছে।
‘যোগ্যদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল’:
গত মে মাসে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা পায়েল মনে করেন, এই নতুন সরকার টলিউডের জন্য এক নতুন সকাল নিয়ে আসবে। টলিপাড়ার সাথে রাজনীতির এই মাখামাখি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পায়েল বলেন, ‘এতদিন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ওপর রাজনীতির যে ব্যাপক প্রভাব ছিল, তার ফলে যা হওয়ার ঠিক তাই হয়েছে— যাঁরা সত্যিকারের যোগ্য এবং প্রতিভাবান শিল্পী, তাঁদের ইচ্ছে করে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, কোণঠাসা করা হয়েছিল। এটা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। আমি গত ২০ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি, বহু বড় পরিচালকের সাথে কাজ করেছি। খুব ছোট বয়স থেকে টলিউডকে দেখছি, তাই গত কয়েক বছরে এর অবক্ষয়টা আমি খুব ভালোভাবেই লক্ষ্য করেছি।’
ফোন করে বাদ, মেলেনি ন্যূনতম সৌজন্যতাও:
নিজের সাথে ঘটা একাধিক অন্যায়ের খোলসা করে পায়েল জানান, বড় প্রযোজনা সংস্থার ছবি থেকেও তাঁকে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়তে হয়েছে। পায়েলের কথায়, “এটা বলতে আজ আমারও খারাপ লাগছে, কিন্তু আমিও এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছি। অন্তত ২-৩ বার বড় প্রজেক্টের অফার পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে আমাকে সিনেমা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এমনও হয়েছে যে, আমি ছবির চিত্রনাট্য পড়তে (Script Reading) যাচ্ছি, আর ঠিক তার আগে আমাকে ফোন করে বলা হলো— ‘আজকের রিডিংটা হচ্ছে না, পরে জানানো হবে’। ব্যস, তারপর আর কোনোদিন ওনাদের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি। পরে দেখলাম, সেই চরিত্রে অন্য কোনো অভিনেত্রীকে কাস্ট করে নেওয়া হয়েছে।’

অভিনেত্রী ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, ‘সিনেমায় কাকে নেওয়া হবে সেটা পরিচালকের সিদ্ধান্ত হতেই পারে, কিন্তু আমাকে অফার করার পর যখন বাদ দেওয়া হচ্ছে, তখন ন্যূনতম সৌজন্যতা দেখিয়ে একটা ফোন তো করাই যায়! সেইটুকু ভদ্রতাও টলিউডের একাংশ দেখায়নি। আমি আজ পর্যন্ত এই নিয়ে কারও কাছে কোনো সহানুভূতি বা দয়া ভিক্ষা করতে যাইনি।’
রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিদায় এবং নতুন সরকার আসার পর পায়েল আশাবাদী যে, এবার অন্তত টলিউড মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবে এবং মেধার ভিত্তিতে কাজ হবে, কোনো রাজনৈতিক চাটুকারিতার ভিত্তিতে নয়।