হরিয়ানার ASI-র শেষকৃত্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা পুত্রের

Spread the love

‘বাবার সব স্বপ্ন আমি পূরণ করব।’ হরিয়ানার রোহতকের সাইবার সেলে নিযুক্ত এএসআই সন্দীপ কুমার লাঠারের শেষযাত্রায় প্রতিজ্ঞা করল পুত্র। সন্দীপ কুমার আত্মঘাতী আইপিএস অফিসার ওয়াই পুরণ কুমারের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলার তদন্ত করছিলেন। গত মঙ্গলবার তিনি রোহতকের এক মাঠে নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি করে আত্মঘাতী হন।

রোহতকের এই এএসআই তাঁর আত্মহত্যার আগে একটি ভিডিও এবং তিন পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট রেখে গেছেন। তাতে অভিযোগ করেছেন যে ওয়াই পুরণ কুমার ছিলেন ‘দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসার’ এবং নিজের কথিত দুর্নীতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে ওই আইপিএস অফিসার জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিকে ব্যবহার করে গোটা ব্যবস্থাকে নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে নিয়েছিলেন। বহু টানাপোড়েনের পর ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সন্দীপ কুমারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। আর তার মাঝখানে এক কিশোর বাবার লড়াই শেষ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছে। সংবাদমাধ্যমকে সন্দীপ কুমারের পুত্র বলেছে, ‘আমি আমার বাবার জন্য গর্বিত। তাঁর সব স্বপ্ন আমি পূরণ করব।’ ইতিমধ্যে সন্দীপ কুমারের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা (এফআইআর) দায়ের হয়েছে।

জুলানায় সংবাদমাধ্যমকে সন্দীপ কুমারের কন্যা বলেন, ‘আমার বাবা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। তিনি শহিদ হয়েছেন। আমার বিশ্বাস, সরকার ও হরিয়ানা পুলিশ আমাদের পাশে থাকবে।’ এদিন জিন্দে মৃত এএসআই-র শেষকৃত্য হয়। শতাধিক যুবক বাইকে জাতীয় পতাকা হাতে চলেন পুলিশের গাড়ির পাশে, যার মধ্যে ছিল সন্দীপ কুমারের দেহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও। অন্যদিকে, বুধবার হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনির সঙ্গে লাঠার পরিবার দেখা করেছে। এরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর ঘোষণা করেন, ‘লাঠারের স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। তাঁর সন্তানদের পড়াশোনার সমস্ত দায় নেবে রাজ্য সরকার।’ এদিকে, বুধবারই চণ্ডীগড়ে আইপিএস অফিসার পুরণ কুমারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এই আবহে হরিয়ানার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) ওপি সিং বলেন, ‘দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। দুজনেই আমাদের সহকর্মী ছিলেন। ভবিষ্যতে যাতে পরিস্থিতি আর না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজ্য পুলিশে অফিসার্স ওয়াইভস অ্যাসোসিয়েশন ইনস্টিটিউটকে আরও শক্তিশালী করা হবে।’ অন্যদিকে, পুরণ কুমারের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে চণ্ডীগড় পুলিশ ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল (সিট) তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *