হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব সামরিক শিক্ষা সম্পর্ক ছিন্ন করেছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সমরমন্ত্রী পিটার হেগসেথ দাবি করেছেন, হার্ভার্ডে গিয়ে মার্কিন সেনারা চরমপন্থি মনোভাব নিয়ে ফিরে আসছেন। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন ও ইহুদীবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ।
বেশ কয়েক মাস ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের। দিন কয়েক আগেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন ট্রাম্প। এবার, হার্ভার্ডের সঙ্গে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলো পেন্টাগন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার মার্কিন সমরমন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা দেন, পেন্টাগন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব পেশাদার সামরিক শিক্ষা, ফেলোশিপ ও সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম বন্ধ করছে।
হেগসেথ বলেন, হার্ভার্ডের চিন্তাধারা জাগ্রত হতে পারে, সমর মন্ত্রণালয়ের নয়। তার দাবি, আগে মন্ত্রণালয়ের মেধাবি কর্মকর্তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হতো যাতে মার্কিন সৈনিকদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ পরিচিত হতে পারে। তবে, ইদানিং বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সেনাদের চিন্তাধারা বদলে যাচ্ছে।
তারা, বিশ্ববাদী ও চরমপন্থি মনোভাব নিয়ে ফিরে আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। হেগসেথ বলেন, হার্ভার্ড হামাসকে উৎসাহ দিয়েছে, ইহুদিদের ওপর আক্রমণকে সহ্য করেছে এবং এখনও বর্ণভিত্তিক বৈষম্য প্রচার করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রোগ্রাম চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কও পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানায় পেন্টাগন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার। বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাধীনতা হারাবে না এবং সংবিধান অনুযায়ী নিজেদের অধিকার ছাড়বে না। হার্ভার্ড সবসময় ইহুদিবাদী বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এটিকে তারা নৈতিক কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে বলেও উল্লেখ করেন গারবার।