হাসিনাকে সরানোর নেপথ্যে থাকতে পারে ডিপ স্টেট

Spread the love

বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এককথায় স্বীকার করে নিলেন, হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর নেপথ্যে ডিপ স্টেট থাকতে পারে। এরই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মূলত সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’-এর মাধ্যমেই নেওয়া হত। তাঁর অভিযোগ, উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে বসেই এই প্রভাবশালী গোষ্ঠী নীতিগত সিদ্ধান্ত নিত এবং প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় বৈঠক করত।

এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন জানান, এই ‘কিচেন কেবিনেট’-এর সদস্যদের অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও নীতিনির্ধারণী স্তরে তাঁদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হত। তিনি আরও দাবি করেন, এই হস্তক্ষেপের কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করেননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য কোনও শক্তির সক্রিয়তা নিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিপ স্টেট পৃথিবীর সব ঘটনার সঙ্গেই যুক্ত থাকে। তারা স্রোতের বিপরীতে যায় না, বরং স্রোতের সঙ্গে থেকে পরিস্থিতি ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে।’ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, এটি যে কাজে আসবে না তা তিনি আগে থেকেই জানতেন। তবে প্রথা অনুযায়ী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হয়েছিল। এদিকে তৌহিদ বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকেও তাঁকে অন্ধকারে রাখা হত। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া একটি বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যত যুক্তই করা হয়নি।

নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৌহিদ হোসেনের মূল্যায়ন হলো, ‘আমি মনে করি আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে শেষ হয়ে যাবে না। আমাদের দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়, তাই আমার অনুমান তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।’ উল্লেখ্য, এর আগেও প্রাক্তন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বড় সিদ্ধান্তগুলো’ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নয়, বরং ক্যাবিনেটের বাইরেই ঠিক হয়ে যেত। তিনিও একটি প্রভাবশালী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *