বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষের দিকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিজেই সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। এই আবহেই ভারতের সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অনুরোধও দেশের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির কাছে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি ভারতের দীর্ঘদিনের মানবিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। যাঁরা গুরুতর সংকট, নির্যাতন বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়েন, তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি ভারত বরাবরই অনুসরণ করে এসেছে। তবে এই ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও একটি মৌলিক নীতি কঠোরভাবে মেনে চলা হয়—ভারতের ভূখণ্ড কোনওভাবেই অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি কেন্দ্রীয় সরকারকে এই মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি যথাযথ কূটনৈতিক ভারসাম্য ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে পরিচালনারও সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কমিটির মতে, দীর্ঘদিন ভিসা পরিষেবায় সীমাবদ্ধতা থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয় এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা পরিষেবা স্থগিত করেছিল। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে সেই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
