একুশে জুলাইয়ের তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবসের মঞ্চ মানেই এতদিন সেখানে ছিল টলিউডের তারকাদের মেলা। প্রথম সারি থেকে শুরু করে মঞ্চের চারপাশ— সবখানেই থাকে বিনোদন জগতের তারকাদের উপস্থিতি। তবে এই বছর সেই চেনা ছবিতে দেখা গেল বড়সড় রদবদল। কারণ তৃণমূল এখন দু-ভাগে বিভক্ত, পাশাপাশি মাত্র দু-মাস আগেই রাজ্য়ে পালাবদল ঘটেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ এবার তারকা-শূন্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে টলিউডের এই অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জোর জল্পনা ও ট্রোল শুরু হয়। আর সেই আলোচনাতেই নাম জড়িয়ে গেল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরসখা’ (Chirosokha)-র ‘বুব্লাই’ অর্থাৎ অভিনেতা ভিভান ঘোষ-এর।
নেটিজেনের তোপ: ‘কাজ হারানোর ভয়ে কেউ যায়নি!’
টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ভিভান ঘোষ নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন, যেখানে লেখা ছিল— ‘আজ বিদ্রোহীদের কথা ভেবে খুব হাসি পাচ্ছে’। ভিভান নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলেও নিন্দকদের মতে, বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির (ঋতব্রত শিবির)-কে কটাক্ষ করে এই পোস্ট।
সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে সায়ন দে নামে এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন, ‘কাজ হারানোর ভয়ে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে কোনো টলিউড অভিনেতা অভিনেত্রীকে দেখা গেল না (excluding দুজন অভিনেতা অভিনেত্রী ছাড়া)।’
‘শিল্পীরা সফট টার্গেট’— সপাটে জবাব ভিভানের
নেটিজেনের এই খোঁচা একেবারেই হজম করেননি অভিনেতা ভিভান ঘোষ। কমেন্টের পাল্টা জবাব দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেন তিনি। ভিভান লেখেন, ‘না, শিল্পীদের ইনভাইট করা হয় তাই যায়। এবার সেটা হয়নি। শিল্পীরা Soft Target আসলে বুঝলেন’।
ভিভানের এই স্পষ্ট জবাবে জলঘোলা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। তাঁর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারকারা কাজ হারানোর ভয়ে বা স্বেচ্ছায় এই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দূরে থাকেননি, বরং দলের তরফ থেকেই এবার তারকাদের সেইভাবে আমন্ত্রণ বা ‘ইনভাইট’ জানানো হয়নি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা অটুট
হালে অপারেশন হয়েছে ভিভানের। তিনি এমনি খুব বেশি বাড়ি থেকে বার হচ্ছেন না, তবে আগেই অভিনেতা স্পষ্ট করেছিলেন ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে যাওয়ার জন্য টলি তারকাদের আমন্ত্রণপত্র আসত অরূপ বিশ্বাসের অফিস থেকে। টিভি নাইন বাংলাকে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর শ্রদ্ধা অবশ্যই ছিল। আজও আছে। উনি একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেভাবে আমাদের কাজ দেখতেন, আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানাতেন, সেটা খুবই ভালো লাগত। বর্তমান রাজ্য সরকারের তরফে এমন আমন্ত্রণ পেলেও, তা রক্ষা করব। কিন্তু এবার কোনও আমন্ত্রণ আসেনি। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নই’।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়
ভিভানের এই উত্তরটি মুহূর্তে নেটপাড়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। বিনোদন জগতে রাজনীতির যোগসূত্র এবং ‘শিল্পীদের সফট টার্গেট’ করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন নেটিজেনদের একাংশ এই রাজনৈতিক মঞ্চে তারকাহীনতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, অন্যপ্রান্তে ভিভানের সমর্থকরা অভিনেতার এই যুক্তিপূর্ণ ও সোজাসাপ্টা মন্তব্যের প্রশংসা করেছেন।