কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভা আসনের অংশ, টালিগঞ্জের একটি পকেটে ৪০ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ায় দাবি তুলেছেন এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ, ওই ৪০ জন ভারতীয় নাগরিক নন। আর সেই ৪০ জনের মধ্যে মধ্যে উনত্রিশ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ের।
দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ওই ৪০ জনেরই নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভোটারদের মধ্যে কয়েকজন চারু মার্কেট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁরা সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটাধিকার বঞ্চিত করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তবে ওই মহিলা ফর্ম ৭ আবেদন সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। ৭ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের যেকোনো ভোটার নির্বাচন কমিশনে আবেদন করতে পারবেন, যাতে একই কেন্দ্রের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হোক বা এর অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করা হোক।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা বলেছেন যে ফর্ম ৭ মূলত মুসলিমদের বিরুদ্ধে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে এর মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ৬৭ বছর বয়সি শেখ গোলাম মেহবুব, যিনি একটি শীর্ষস্থানীয় তেল ও গ্যাস রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা থেকে ‘জেনারেল ম্যানেজার, এভিয়েশন’ হিসেবে অবসরগ্রহণ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও ফর্ম ৭ আবেদন দাখিল করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী এবং কন্যার সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে মেহবুব বলেন, ‘আমি খুব অবাক হয়েছি। পুরো বিষয়টি ভোটারদের একটি অংশকে হয়রানি করার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।’ তিনিও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর স্ত্রী ফ্লোরা মেহবুব, ৬৩ বছর বয়সি, দেগঙ্গার প্রয়াত প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মহম্মদ শওকত আলির কন্যা। ৭ নম্বর ফর্মের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর বুথ-স্তরের অফিসার (বিএলও) চারু মার্কেট এলাকার মেহবুব পরিবারের বাড়িতে যান। মেহবুব, তার স্ত্রী এবং তাদের মেয়ে নিজেদের পাসপোর্ট জমা দেন এবং বিএলও তাদের পাসপোর্টের কপি আপলোড করেন।

এই প্রসঙ্গে ৮৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএলও সুপারভাইজার প্রনোমেশ সোরেন বলেন, ‘একজন মহিলা অনলাইনে বেশ কয়েকটি ফর্ম ৭ আবেদন জমা দিয়েছিলেন। আমরা যখন তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য ডাকি, তখন তিনি আসতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু ফর্মে উল্লেখিত ভোটারদের বৈধ কাগজপত্র ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় তাদের নাম রয়েছে।’ পুলিশের কাছে ওই মহিলার বিরুদ্ধে ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। চারু মার্কেট থানার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।