₹1.77 Crore cash & Condom Found in School। কাঁচরাপাড়ার স্কুল থেকে উদ্ধার ১.৭৭ কোটি নগদ! মিলল কন্ডোমের প্যাকেট

Spread the love

উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ফোরম্যান কলোনিতে অবস্থিত হারনেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত চলা অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে সেই স্কুলের ‘সিক রুমে’ পাওয়া গেল কন্ডোমের প্যাকেট।

রিপোর্ট অনুযায়ী, স্কুল থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ এত বেশি ছিল যে তা গোনার জন্য একাধিক নোট গণনার মেশিন আনতে হয়। ভোর ৪টে পর্যন্ত গণনার পর নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং স্কুলের ক্যাশিয়ার অভিক নাথ ও সহকারী অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তল্লাশির সময় স্কুলের ‘সিক রুম’-এর একটি আলমারি থেকে কন্ডোমের প্যাকেটও উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটি কার্যত তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। এদিকে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর। এলাকার বিধায়ক সুদীপ্ত দাস অভিযোগ করেছেন, এই টাকা স্কুলের নয়, বরং স্কুল পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কালো টাকা হতে পারে। তিনি দাবি করেন, স্কুলটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অন্য কাজে ব্যবহার করা হত। অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, স্কুলের পরিচালন সমিতিতে থাকা প্রাক্তন পুরপ্রধান কমল অধিকারীর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অর্থের যোগ থাকতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিধায়কের বক্তব্য, ‘এই টাকা স্কুলের টাকাও নয়। এটা কমল অধিকারী, সুবোধ অধিকারী, পার্থ ভৌমিকের ব্ল্যাক মানি। এখন যা বোঝা যাচ্ছে, এত টাকা তারা ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে এই স্কুলে লুকাত। স্কুলে এত টাকা কোথা থেকে থাকবে।’ তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। কমলবাবুও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

স্কুলের অধ্যক্ষ বিকাশচন্দ্র পাল অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থ ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ফি ও অন্যান্য বাবদ সংগৃহীত টাকা। তিনি বলেন, সেই অর্থ ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার কথা ছিল। ‘সিক রুম’ থেকে উদ্ধার হওয়া কন্ডোমের প্যাকেট সম্পর্কে তিনি কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলেও দাবি করেছেন।

বর্তমানে পুলিশ উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস, হিসাবপত্র এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকার প্রকৃত মালিকানা বা এর সঙ্গে কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ড জড়িত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে ঘটনাটি ঘিরে কাঁচরাপাড়া এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *