Indian Navy ₹449 Crore Pact: ভারতের সামুদ্রিক যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ২০টি এনহ্যান্সড কেপেবিলিটি গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (ECGNSS) জ্যামার কেনা হচ্ছে। এর জন্য বেঙ্গালুরুভিত্তিক অ্যাকর্ড সফ্টওয়্যার অ্যান্ড সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে ৪৪৯ কোটি টাকার চুক্তি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই জ্যামারগুলি ভারতীয় নৌসেনার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
চুক্তি অনুযায়ী, এই জ্যামার তৈরি করতে অন্তত ৭৫ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহার করতে হবে। প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে আত্মনির্ভর ভারতের নীতির কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই জ্যামার তৈরির প্রকল্পটিকে।
ECGNSS জ্যামার কী?
GNSS (গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম) হল GPS, GLONASS, BeiDou বা NavIC-এর মতো স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা। নতুন ECGNSS জ্যামার শত্রুপক্ষের GNSS রিসিভারের স্যাটেলাইট সিগন্যাল গ্রহণ ও ট্র্যাকিং ক্ষমতা ব্যাহত করতে পারবে। পাশাপাশি এটি সিগনাল স্পুফিং ও ডিসেপ্টিভ জ্যামিংয়ের (শত্রুদের বিভ্রান্ত করে দিতে) মতো উন্নত ইলেকট্রনিক আক্রমণও চালাতে সক্ষম হবে।
ভারতীয় নৌসেনার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জ্যামার?
আধুনিক নৌযুদ্ধে জাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিভিন্ন অস্ত্রব্যবস্থা স্যাটেলাইট নেভিগেশনের উপর নির্ভরশীল। এই জ্যামার শত্রুপক্ষের নেভিগেশন ও লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করবে এবং ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে বহুমুখী হুমকিপূর্ণ পরিবেশে নিরাপদে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ সম্পূর্ণরূপে স্যাটেলাইট গাইডেড নেভিগেশনের ওপর নির্ভর করে চলে। এই ECGNSS জ্যামারগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে যুক্ত হওয়ার ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শত্রুর ড্রোন বা অ্যান্টি-শিপ মিসাইল সিগন্যাল জ্যাম করে সেগুলোর লক্ষ্যভ্রষ্ট করা সম্ভব হবে। ফলস্বরূপ, যেকোনও মাল্টি-থ্রেট বা জটিল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারতীয় নৌসেনার জাহাজগুলো অত্যন্ত নিরাপদে তাদের অপারেশন পরিচালনা করতে পারবে।
