ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ‘চিপ থেকে জাহাজ’ পর্যন্ত ১৫টি বড় চুক্তি

Spread the love

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ং-এর মধ্যে সোমবারের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা) উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছে। ‘চিপ থেকে জাহাজ’ পর্যন্ত এই যাত্রাপথে মোট ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে আমূল পরিবর্তন আনবে।

১৫টি চুক্তি এবং ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা

একটি যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে, গণতন্ত্র এবং বাজার অর্থনীতি ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার ডিএনএ-র সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং তা এখন দ্বিগুণ হওয়ার পথে। এই লক্ষ্যে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া ফিনান্সিয়াল ফোরাম এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-অপারেশন কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগকে (এসএমই) উৎসাহিত করার জন্য একটি কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ স্থাপন করা হবে। এর ফলে ভারতে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

অযোধ্যা থেকে কে-পপ পর্যন্ত যাত্রা

বৈঠক চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ২,০০০ বছরের পুরোনো সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। অযোধ্যার রাজকুমারী সুরিরত্না এবং কোরিয়ার রাজা কিম-সুরোর ঐতিহাসিক কাহিনীর উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, আমাদের একটি অভিন্ন ঐতিহ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতীয় তরুণদের মধ্যে কে-পপ এবং কে-ড্রামার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারও প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে রাষ্ট্রপতি লি নিজেও ভারতীয় সিনেমার একজন ভক্ত। এই সাংস্কৃতিক সংযোগ উদযাপনের জন্য ২০২৮ সালে একটি “ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া মৈত্রী উৎসব” আয়োজন করা হবে।

কোন কোন প্রধান ক্ষেত্রে চুক্তিগুলো করা হয়

দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫টি চুক্তির মধ্যে প্রধানগুলো হলো নিম্নরূপ:

  • প্রযুক্তি: সেমিকন্ডাক্টর (চিপ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল সেতু।
  • অবকাঠামো: জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত ও বন্দর।
  • পরিবেশ: জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্যারিস চুক্তির অধীনে সহযোগিতা।
  • বাণিজ্য: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মধ্যে অংশীদারিত্ব।
  • প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি: অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংলাপ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় উদ্যোগে কোরিয়ার অংশগ্রহ

ভবিষ্যতের জন্য বড় ঘোষণা

এই সফরকালে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সৌর জোটে দক্ষিণ কোরিয়ার যোগদান এবং দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর মতে, এই বন্ধুত্ব এখন ‘আস্থার অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বে’ পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *