Abhijit Dipke called Mamata Banerjee। আন্দোলন শেষে মমতাকে ফোন অভিজিৎ দীপকের

Spread the love

ছাত্রদের আন্দোলনের জেরে বড় রাজনৈতিক মোড়। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়া এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর আপাতত দিল্লি সফর স্থগিত করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকার পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর যখন ছাত্রদের সব দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা জানায়, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন অভিজিৎ দীপকে। প্রায় তিন মিনিটের ওই ফোনালাপে তিনি ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য তৃণমূল নেত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে যে সংহতির বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছিলেন, তার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রীও ছাত্রনেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় গণতন্ত্রেরই সাফল্য। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তবে যেহেতু আন্দোলনকারীদের সব দাবি সরকার ইতিমধ্যেই মেনে নিয়েছে এবং কর্মসূচিও প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাই সোমবারের নির্ধারিত দিল্লি সফর আপাতত বাতিল করা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পুলিশি পদক্ষেপের সময় থেকেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজন হলে নিজে দিল্লি গিয়ে ককরোচ পার্টির আন্দোলনে শামিল হবেন। তাঁর সেই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। তৃণমূলও জানিয়েছিল, সোমবার তিনি রাজধানীতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু তার আগেই পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।

শনিবার সকালে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠান। পরে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিন থেকেই তিনি নিট প্রশ্নফাঁসের নৈতিক দায় স্বীকার করেছিলেন এবং কখনও দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি বলেও দাবি করেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু দেশবিরোধী শক্তি অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই পরিস্থিতিকে রুখতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবিও সরকার মেনে নেয়। ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহার এবং আত্মহত্যা করা ছাত্রদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের অবসান ঘটে। আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর আপাতত দিল্লি সফর স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভবিষ্যতে ছাত্রস্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজন হলে তিনি আবারও সরব হবেন বলেই তৃণমূল সূত্রের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *