CJP Protest Update। ২৬ দিনের অনশনের পরও জয়ের ভাষণে ব্রাত্য সোনম ওয়াংচুক

Spread the love

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন সিজেপি (CJP)-র আন্দোলনে উচ্ছ্বাস, তখনই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। অভিযোগ, জয়ের ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ, লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নামই উল্লেখ করতে ভুলে যান। অথচ টানা ২৬ দিন অনশন করে আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াংচুকের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশ।

এই আন্দোলনের সূচনা হয় ৬ জুন, যখন অভিজিৎ দীপকে আমেরিকা থেকে ভারতে ফিরে যন্তর-মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। কিন্তু আন্দোলন প্রত্যাশিত গতি না পাওয়ায় ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ ২৬ দিন তিনি অনশন চালিয়ে যান। ১৮ জুলাই তাঁকে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বারবার বার্তা দেন।

২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে সিজেপি-র মিছিল সফল করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন ওয়াংচুক। সেই কর্মসূচির পর আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আরও বেশি মানুষ আন্দোলনের পাশে দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের আশ্বাসের ভিত্তিতে ২২ জুলাই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াংচুক।

তবে তাঁর অনশন প্রত্যাহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচকদের একাংশের দাবি ছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মতো মূল দাবি পূরণ হওয়ার আগেই তিনি অনশন ভেঙেছেন। যদিও ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সেই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে বলেন, মানুষের উচিত তাঁর আত্মত্যাগের মূল্য উপলব্ধি করা।

এদিকে সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সোনম ওয়াংচুকের অবদান কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তাঁর কথায়, ওয়াংচুকই গোটা দেশের যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং আন্দোলনকে নতুন শক্তি দিয়েছিলেন। তাই যন্তর-মন্তরের মঞ্চে জয়ের ভাষণে তাঁর নাম না ওঠা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর লেগেছে। আন্দোলনের সাফল্যের নেপথ্যে সোনম ওয়াংচুকের ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে আন্দোলনের অন্দরে কার্যত কোনও দ্বিমত নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *