বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই কি বড় কোনও দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসতে চলেছে? তেমনই ইঙ্গিত দিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। রবিবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত রাজন্যা হালদারদের ‘পশ্চিমবঙ্গ ঐক্যবদ্ধ ছাত্র যুব সমাজ সংগঠনে’-র সাংবাদিক বৈঠকের মধ্যেই বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘খুব শীঘ্রই একটা কেলেঙ্কারি উদঘাটিত হতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে আমাদের শুধু ৭২ ঘণ্টা কেন, ১৪৪ ঘণ্টার বনধ ডাকতে হতে পারে। আমি ক্লু পেয়েছি। আমি অপেক্ষা করছি, এটা কীভাবে ফাঁস করা যায়। আমার হাতে সেটা নেই এখনও। একটু সময় লাগবে। যদি ফাঁস না হয়, তাহলে আদালতেই দেখা হবে।’
এটাও কি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি?
আর অভিজিৎ যখন হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন, তখন নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি সামনে এসেছিল, এবারও কি সেইরকম কোনও কেলেঙ্কারি ফাঁস হতে চলেছে? সেটার প্রেক্ষিতে বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘শিক্ষা সংক্রান্ত (দুর্নীতি বা কেলেঙ্কারি) নয়।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিটা হয়ে আছে। তার খবর ফাঁস হবে।’
‘টপ লেভেলের’ লোকজন যুক্ত আছে? বিস্ফোরক অভিজিৎ
অভিজিৎ আরও বলেন, ‘কে সামনে আনবে, সেটা আমি এখনই বলতে পারছি না। সামনে নাও আসতে পারে আদালতের কারণে। তবে সেই দুর্নীতি আদালতের বাইরে সামনে এলে তাহলে ক্রমাগত বনধ ডেকে এই সরকারকে উৎখাত করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও জানি না। এইসব দুর্নীতিতে টপ লেভেলর জড়িত না থাকলে এই ধরনের দুর্নীতি হয়ই না।’

রাজন্যাদের সাংবাদিক বৈঠকে আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা
আর যে রাজন্যাদের ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে সেই মন্তব্য করেছেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ, সেখানে হাজির ছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা-মা। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের পরে একটি শর্টফিল্মে অভিনয় করেছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন নেত্রী রাজন্যা। তা নিয়ে চরম বিতর্ক হয়েছিল। তারপরই তড়িঘড়ি তাঁকে ঘাসফুল শিবির সাসপেন্ড করে দিয়েছিল।তারপর থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিকবার মুখ খুলেছেন রাজন্যা। মাসকয়েক আগে চরম জল্পনা ছড়িয়েছিল যে ফুল বদলে বিজেপিতে যাচ্ছেন। তবে বিজেপি তাঁকে নিতে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি বলে একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়। আর এবার ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠন তৈরি করে ময়দানে নেমেছেন রাজন্যা।