Abhishek Banerjee। সই জাল কাণ্ডে অভিষেকের মামলা থেকে সরলেন কল্যাণ

Spread the love

সই জালিয়াতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আর সওয়াল করবেন না বলে জানিয়ে দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানির আগে আচমকাই তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। শুধু তিনি নন, তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অন্যান্য জুনিয়ররাও মামলা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন।

এরপর অভিষেকের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ নির্দেশ দেন, অভিষেককে সিআইডির তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং বৃহস্পতিবারই সিআইডি-র ডাকে হাজিরা দিতে হবে। তবে পরবর্তী দু’সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলেও আদালত জানায়।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমি ৪৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। এই ধরনের উদ্ধত আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।’ তাঁর অভিযোগ, বুধবার আদালতে জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি তোলার জন্য তিনি উদ্যোগ নিলেও পরে তাঁকে না জানিয়েই তাঁর ছেলেকে ফোন করে জানানো হয় যে অন্য এক আইনজীবী এই মামলায় সওয়াল করবেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে কল্যাণ বলেন, ‘আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে। তারপরেও উদ্ধত ভাব যায়নি।’

অন্যদিকে, সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির নজরে রয়েছেন অভিষেক। অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। তদন্তের সূত্রে সিআইডি ইতিমধ্যেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, যে বৈঠকে ওই স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কীভাবে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ৩০ মে প্রথমবার অভিষেকের বাড়িতে নোটিস নিয়ে যায় সিআইডি। এরপর একাধিকবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হননি। অবশেষে আদালতের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে ভবানী ভবনে সিআইডির সামনে হাজির হওয়ার কথা তাঁর।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখ—কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে এই প্রকাশ্য সংঘাত দলীয় অন্দরের অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধু একটি আইনি মামলার ঘটনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়েরও প্রকাশ্য বহিঃপ্রকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *