মহিলাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি প্রকল্পের টাকা এবার জমা পড়ল এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রঘুনাথপুর শহরে। অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে দেখে হতবাক হয়ে যান স্বদেশপ্রিয় মাহাতো নামে এক ব্যক্তি। স্বদেশপ্রিয়ের দাবি, কয়েকদিন আগে তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে নিজের পাসবই আপডেট করতে যান। তখনই দেখতে পান, গত ৩ জুন তাঁর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা জমা পড়েছে। কীভাবে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে এল, তা বুঝতে না পেরে তিনি দ্রুত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বুধবার তিনি মহকুমা শাসকের দপ্তরে পাসবুকের জেরক্স জমা দিয়ে লিখিতভাবে জানান যে ওই টাকা তিনি ফেরত দিতে চান। তাঁর কথায়, “পাসবুক আপডেট করতেই দেখি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এসেছে। আমি এসডিও-র কাছে লিখিতভাবে টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন করেছি। প্রশাসন যেভাবে নির্দেশ দেবে, সেভাবেই টাকা ফেরত দেব।”
ঘটনা সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তৎপরতা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী নদিয়ার চাঁদ বাউড়ি। তাঁর মতে, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটি থেকে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং কীভাবে এই অর্থ ভুল অ্যাকাউন্টে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র একদিন আগেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে জালিয়াতির অভিযোগে মুর্শিদাবাদ থেকে কয়েকজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের মাধ্যমে বহু পুরুষের অ্যাকাউন্টে ভুলভাবে সরকারি অনুদানের টাকা পৌঁছে গিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পুরুষের অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোর ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি তথ্য যাচাই ও ডেটা ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এখন প্রশাসনের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, এটি নিছক প্রযুক্তিগত বা মানবিক ভুল, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও অনিয়ম।
