Anti-paper Leak Bill 2026। বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পেশ ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী’ বিল

Spread the love

Anti-paper Leak Bill 2026: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (সিজেপি) টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন। দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। প্রশ্নফাঁস রোধে টাস্কফোর্স গঠন। শেষমেষ জালিয়াতি রুখতে এবার কড়া আইনের পথে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেই মতো আজ, সোমবার লোকসভায় পেশ করা হল ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬।’ এই বিলের লক্ষ্য হল ২০২৪ সালের আইনটি সংশোধন করে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, দোষীদের কঠোর শাস্তির বিধান করা এবং সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যান্য অসদুপায় সংক্রান্ত মামলার জন্য প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ তৈরি করা।

সোমবার দুপুরে লোকসভায় এই বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগেই সাংসদদে এই খসড়া বিলটি বিতরণ করা হয়েছিল এবং গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এতে অনুমোদন দেয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অসদুপায়ের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে এই বিলে। কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে ৫-১০ বছর করা হয়েছে। বর্তমানে যা ৩ থেকে ৫ বছর। জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ বছর এবং জরিমানা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। সর্বভারতীয় প্রবেশি পরীক্ষা পরিচালনার কাজে যুক্ত পরিষেবা প্রদানকারীদের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ জরিমানা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হবে এবং নিয়মভঙ্গকারী পরিষেবা প্রদানকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা হবে। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

অন্যদিকে, প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং ছাত্র-বিক্ষোভে পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’ কেন্দ্রের জবাবদিহি চাইছে বিরোধী দলগুলি। সোমবার অধিবেশন শুরু থেকেই তা নিয়ে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয় সংসদের উভয় কক্ষ। বিরোধীরা হট্টগোলের জেরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভা ও রাজ্যসভা। দুপুর ১২টায় ফের অধিবেশন বসলে বিরোধীদের হইহট্টগোলের মাঝেই সংশোধনী বিল পেশ হয় লোকসভায়, যার পোশাকি নাম ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬।’ তার পরেই ফের দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন। এদিকে, সংশোধনী বিল নিয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রকে বিঁধতে শুরু করেছে কংগ্রেস। গোটা বিষয়টিই ‘লোকদেখানো’ পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন হাত শিবিরের সাংসদ গৌরব গগৈ। তাঁর অভিযোগ, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্তিযুক্ত সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি সরকার।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার মোকাবিলা এবং অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের জন্য একটি আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ার পর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *