‘কালীঘাট’ তৃণমূল ছেড়ে একে একে যখন ঘাসফুল শিবিরের তাবড় নেতারা ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের দিকে যাচ্ছেন, তখন মমতার এককালের অত্যন্ত আস্থাভাজন কেষ্ট মণ্ডলও সেই ট্রেন্ডে রইলেন।ঋতব্রত, অনুব্রত এবার এক শিবিরে। গতকাই নানান জল্পনার মাঝে অনুব্রত মণ্ডল সম্পর্কে এক ইঙ্গিতবহ বার্তা দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর আজই ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে বীরভূমের জেলা সভাপতি হিসাবে উঠে এল অনুব্রত মণ্ডলের নাম। তবে কেষ্ট মণ্ডল, ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের ফলে রাজ্য রাজনীতিতে এক নয়া সমীকরণ উঠে আসতে পারে কি না, তা নিয়ে রয়েছে চর্চা। কারণ, এর আগেই, বীরভূমের তাবড় নেতা কাজল শেখ ঋতব্রত পন্থীদের মধ্যে ছিলেন। সেই শিবিরে অনুব্রত যেতেই বিভিন্ন জল্পনা বাড়ছে।
বীরভূমের মাটিতে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের সম্পর্ক নিয়ে নানান সময় বিভিন্ন চর্চা, রিপোর্ট উঠে এসেছে। সেই জল্পনা খানিকটা উস্কে দিল অনুব্রতর, ঋতব্রত-শিবিরে আসার ঘটনা। ঋতব্রত শিবিরের বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে অনুব্রতকে। এই দায়িত্ব প্রাপ্তির সময়ও বীরভূমেই অনুব্রত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ঋতব্রত পন্থী শিবিরে শান্তনু সেন এসেছেন রাজ্য কমিটিতে। তিনি দলের মুখপাত্র হিসাবেও উঠে এসেছেন। এছাড়াও তীব্র অভিষেক-বিরোধী হিসাবে উঠে আসা কোহিনূর মজুমদার সহ একাধিকজন দলের তরফে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে, হাওড়ার দায়িত্বে অরুণাভ (রাজা) সেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রদীপ সরকার, বাঁকুড়া, রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়, ঘাটাল সঞ্জয়, পুরুলিয়ায় উজ্জ্বল কুমার,পূর্ব বর্ধমানে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়,পশ্চিম বর্ধমান নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির সভাপতি হয়েছেন ঋতব্রত পন্থী তৃণমূলের তরফে। শুভাশিষ দাশের দায়িত্বে রয়েছে ডায়মন্ডহারবার। দক্ষিণ কলকাতার দায়িত্ব রয়েছে দেবাশিস কুমারের হাতে। গণেশ মণ্ডল দেখবেন সুন্দরবন, হাওড়া সদর দেখবেন সৃষ্টিধর ঘোষ।

উল্লেখ্য, এদিন ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। আরজিকর কাণ্ডে নির্মল ঘোষের নাম বিভিন্ন চর্চায় এসেছে। বহুবারই নির্যাতিতার পরিবার তাঁর দিকে তুলেছে নানান অভিযোগের আঙুল। তরুণী ডাক্তারের দেহ তড়িঘড়ি অন্ত্যেষ্টি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ঋতব্রত জানান, নির্মল ঘোষকে ঘিরে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।