Bangadesh। ‘আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ?’ হাসিনা দেশে ফেরার আগে ইস্তফা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির

Spread the love

২০২৩ সালে শেখ হাসিনার আমলে মহম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে যোগ দেন। তাঁর মেয়াদকাল ছিল ৫ বছরের। এরপর ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঝড়। সেই সময় তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। রাতারাতি দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। বর্তমানে একাধিক মামলায় বাংলাদেশে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন হাসিনা। সদ্য, মুজিবকন্যা হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি নিজে বাংলাদেশে ফিরতে চান, আর তা হবে ডিসেম্বর মাসে। ঠিক তার আগে এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সাহাবুদ্দিন।

আপাতত বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাবেন সেদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। এদিকে, বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ইস্তফা দিতে পারেন। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, বর্তমান বাংলাদেশের তারেক সরকারের সম্পর্ক ততটা উষ্ণ নয়। রয়টার্স উল্লেখ করে দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বলছে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার কথা ঘোষণা করতেই তারেক সরকারই, সেদেশের রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বিষয়ে বার্তা দেয়। বেশ কিছু রিপোর্ট দাবি করছে, সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিককালে ফের একবার শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা নাকি করেছেন। সদ্য সাহাবুদ্দিনের লন্ডন সফরের সময়ই নাকি শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন বলেও বহু মিডিয়া রিপোর্টের দাবি। আর সেই ঘটনাই তারেক সরকারের পছন্দ হয়নি, বলেও রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে। এদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় যাতে, বাংলাদেশে শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় থাকে, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। এই অবস্থাতেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ইস্তফা এল।

এদিকে, সাহাবুদ্দিনকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,’ এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’ তিনি পদত্যাগের যে চিঠি লিখেছেন, তাতে নিজের অসুস্থতার কারণকেই তুলে ধরেছেন। চিঠিতে সাহাবুদ্দিন লেখেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্যপরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথিক’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।’ ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের চরম সাংবিধানিক সংকটের সময়ও কীভাবে তিনি দায়িত্ব সামলেছেন এবং পরবর্তী পর্যায়েও তিনি কীভাবে তাঁর দায়িত্বে অবিচল ছিলেন, সেই কথাও চিঠিতে লেখেন সাহাবুদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *