বাংলাদেশের ছাত্র নেতা ওসমান হাদির ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ‘RAW’-কে দায়ী করা হল এবার। জানা গিয়েছে, ওসমানের বোন মাহফুজা অভিযোগ করেছেন যে হাদির ওপর এই হামলার নেপথ্যে নাকি থাকতে পারে ‘র’। এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘ভারতের র আমার ভাইকে বাঁচতে দেবে না।’ যদিও তাঁর এহেন দাবি বা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সর্বশেষ তদন্তে জানা গিয়েছে, হাদিকে গুলি করা বন্দুকবাজ হল ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল।
এদিকে গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি কট্টর ভারত বিরোধী। এনসিপির অন্যতম ‘মুখ’ সারজিস আলমও এই ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে ভারতের নাম নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ওসমান হাদি অভ্যুত্থানের আগে থেকেই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধের বুক চিতিয়ে কথা বলে এসেছে। বিগত কয়েক মাসে এই বাংলাদেশে বিভিন্ন পরিচয়ে সীমান্ত দিয়ে এমন অনেক মানুষকে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে। যাদেরকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পাঠানো হয়েছে। কারণ তারা জানে যারা জুলাইয়ে রক্ত দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে আবার বাংলাদেশে সংকট আসলে তারা এক হয়ে যাবে। এই গুলি শুধু ওসমান হাদির মাথায় নয়, বাংলাদেশের ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা অভ্যুত্থানের বুকে এই গুলি করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, হাসিনার বিদায়ের পর একাধিক জনসভায় এই ওসমান হাদি স্লোগান তুলেছিলেন – ‘দিল্লি না ঢাকা’। গত ১২ ডিসেম্বর সেই ওসমান গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঢাকা-৮ আসনের নির্দল প্রার্থী হতে চলেছিলেন আসন্ন নির্বাচনে। এদিকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ওসমান ভারতের বিকৃত একটি মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। একটি আলোচনা সভার সেই পোস্টে ভারতের থেকে পঞ্জাব, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন দেখানো হয়েছিল। সেগুলিকে পাকিস্তানের এলাকা হিসেবে দেখানো হয় মানচিত্রে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের অধিকাংশ এলাকা, গোটা ঝাড়খণ্ড, উত্তরপূর্ব ভারত এবং মায়ানমারের আরাকান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাটিকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
