মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে গতকালই এক সন্দেহভাজনকে এটিএসের (অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড) পাকড়াও করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সন্দেহ করা হচ্ছে, ধৃত মহম্মদ ফরাজ কোনও ‘লোন উল্ফ’ ঘরানায় হামলা চালানোর ফন্দিতে ছিল। এর পরদিনই, শনিবার উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর পুলিশ ও এটিএসের এক অভিযানের খবর উঠে এল। জানা যাচ্ছে, ১৭ বছর ধরে গা ঢাকা দেওয়া এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট ৬ জন অবৈধ বাংলাদেশিকে এই অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উত্তর প্রদেশ অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস) এবং সাহারানপুর পুলিশের একটি যৌথ দল এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে, ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী দায়ের করা একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। জানা গিয়েছে ধৃতের নাম জাহিদ। জাহিজের বাবার নাম আহমদ ফকির ওরফে ডালু। জানা যায়, জাহিদের গ্রেফতারের ওপর ২৫,০০০ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগ ২০০৯ সালে দায়ের করা একটি মামলায় সে ‘ওয়ান্টেড’ বা পলাতক ছিল। জাহিদকে ধরতে এটিএস, সাহারানপুর পুলিশ, ও চিলকানা পুলিশের একটি অভিযান চলে।
পুলিশ জানিয়েছে, তৎকালীন গোয়েন্দা শাখার সাব-ইন্সপেক্টর ইন্দ্রপাল সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৯ সালে জাহিদের বিরুদ্ধে সাহারানপুরের কুতুবশের থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। বৈধ পাসপোর্ট বা অন্যান্য আইনি নথিপত্র ছাড়াই ভারতে বসবাস ও কাজ করার অভিযোগে ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর ১৪ নম্বর ধারায় মামলা করা হয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে, পলাতক থাকাকালীন সময়ে গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্রমাগত নিজের অবস্থান ও পরিচয় পরিবর্তন করে বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করছিলেন। গ্রেফতারের সময় অভিযুক্ত পাঞ্জাবের এসএএস নগর (মোহালি)-এর ডেরা বাস্সির গুরুদোয়ারা গুলাবগড়ের কাছে অবস্থান করছিল। তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার লেফকাসারি থানা এলাকাকে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ফোনটি পরীক্ষা করে একটি জাল আধার কার্ড ও অন্যান্য সন্দেহজনক নথির ছবি পাওয়া গেছে, ধারণা করা হচ্ছে, নিজের পরিচয় গোপন রাখতে এবং ভারতে অবস্থান নিশ্চিত করতে এসব নথি ব্যবহার করা হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশ, মায়ানমার ও অন্যান্য দেশের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, ধারণা করা হচ্ছে তাঁর স্ত্রী একজন নেপালি নাগরিক।