Bangladeshi Leader Nahid Islam on India। ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়’

Spread the love

বাংলাদেশি কট্টরপন্থী নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ভারত বিরোধিতার নয়া ঢেউ উঠেছে বাংলাদেশে। আর সেই ঢেউতেই গা ভাসিয়ে এবার বড় মন্তব্য সেই দেশের নবগঠিত এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের। ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাক্তন এই উপদেষ্টার দাবি, ভারতের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত বাংলাদেশের। ১৯ ডিসেম্বর ভোররাতে ঢাকার রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় নাহিদ বলেন, ‘ওসমান হাদির হত্যাকারীরা যদি ভারতে পালিয়ে থাকে, তাদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।’ উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম ‘মুখ’ ছিলেন নাহিদ। পরবর্তীতে তিনি ইউনুসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হন। তবে এনসিপি গঠনের সময় সরকার থেকে পদত্যাগ করে দলের আহ্বায়ক হন।

নাহিদ বলেন, ‘এই লড়াই কেবল একজন নেতার হত্যার বিচার নয়। এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ শুধু আওয়ামী লীগকে নয়, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও রায় দিয়েছে। ১৯৭১ সালের পর থেকেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে আসছে। বাংলাদেশের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক লড়াই এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেই সংগঠিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এই লড়াই থেকে আর পিছু হটার সুযোগ নেই।’

এরপর নাহিদ বলেন, ‘ওসমান হাদির লড়াই ছিল ভারতীয় ও বৈদেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা শুধু আওয়ামী লীগকে বিতাড়িত করিনি, দেশে থাকা ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধেও জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে।’ উল্লেখ্য, ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় গত ১২ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়েছে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। এই ঘটনা সামনে আসার পরপরই বাংলাদেশ জুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক এবং হাসিনা বিরোধীরা ঢাকা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে উন্মত্ত জনতা। এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’র অফিসেও তাণ্ডব চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরই সঙ্গে ভারত বিরোধী স্লোগানও শোনা যাচ্ছে – ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *