চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে পাথর ছুড়তে গিয়ে নিজের দলের যুবককে মারল কট্টরপন্থীরা। ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই গোটা বাংলাদেশ উত্তপ্ত। চট্টগ্রামেও এর আঁচ গিয়ে পড়ে। এবং সেখানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার চেষ্টা হয়। পুলিশ ক্টরপন্থীদের আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয় তাদের। এরই মাঝে অবশ্য ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন লক্ষ্য করে জলের বোতল এবং পাথর ছুড়তে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। সেই সময়ই এক হামলাকারীকেই ভুল বশত পাথর ছুড়ে মারে অপর এক কট্টরপন্থী। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পরে আঘাতপ্রাপ্ত হামলাকারী। বাকি বিক্ষোভকারীরা পরে তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল গভীর রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনারের বাসভবনের দিকে মিছিল করে যায় কট্টরপন্থীরা। সেখানে হামলার চেষ্টাও করে তারা। নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে। তবে একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যায়। এই আবহে চট্টগ্রামের রাস্তায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া’ স্লোগান ওঠে সেই সময়। কট্টরপন্থীরা সেখানে জড়ো হয়ে ঘোষণা করে, তারা নাকি ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ আছে।
এদিকে কট্টরপন্থী বাংলাদেশি নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাইকমিশন ‘বন্ধ করার ঘোষণা’ করেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম। তাঁর বক্তব্য, ‘হাদির খুনিদের যতক্ষণ পর্যন্ত না ভারত ফিরিয়ে দিবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন বন্ধ থাকবে।’ উল্লেখ্য, ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় গত ১২ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়েছে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। এই ঘটনা সামনে আসার পরপরই বাংলাদেশ জুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক এবং হাসিনা বিরোধীরা ঢাকা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে উন্মত্ত জনতা। এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’র অফিসেও তাণ্ডব চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরই সঙ্গে ভারত বিরোধী স্লোগানও শোনা যাচ্ছে – ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’।
