রাতভর তাণ্ডবের পর ভোরের দিকে চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনের বাইরে মোতায়েন করা হল সেনাবাহিনী। এর আগে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে পাথর ছোড়া হয়েছিল। পরে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছিল। পরে পুলিশ ১২ জনকে আটক করে। সংঘর্ষে তিন পুলিশকর্মীও আহত হন। এদিকে আজ রাজশহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘেরাও করার ডাক দেওয়া হয়েছে। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তাঁর হামলাকারী ভারতে পালিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করে এই ভারত বিদ্বেষের ঝড় উঠেছে বাংলাদেশে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল গভীর রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনারের বাসভবনের দিকে মিছিল করে যায় কট্টরপন্থীরা। সেখানে হামলার চেষ্টাও করে তারা। নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে। তবে একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যায়। এই আবহে চট্টগ্রামের রাস্তায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া’ স্লোগান ওঠে সেই সময়। কট্টরপন্থীরা সেখানে জড়ো হয়ে ঘোষণা করে, তারা নাকি ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ আছে।
উল্লেখ্য, ওসমান হাদিকে গুলি করা হয় গত ১২ ডিসেম্বর। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়েছে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। এই ঘটনা সামনে আসার পরপরই বাংলাদেশ জুড়ে তাণ্ডব শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক এবং হাসিনা বিরোধীরা ঢাকা, রাজশাহী সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে উন্মত্ত জনতা। এদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসেও তাণ্ডব চালানো হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরই সঙ্গে ভারত বিরোধী স্লোগানও শোনা যাচ্ছে – ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘ভারতের আগ্রাসন, ভেঙে দাও-গুঁড়িয়ে দাও’।
