শেখ হাসিনার বিদায়ের পর ক্ষমতায় বসেই একাধিক ভারত বিরোধী জঙ্গিকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। এমনকী সম্প্রতি আবার দিল্লি বিস্ফোরণের আবহে এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ঢাকার বনানীতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ এবং পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি। এই সবের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবার ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিয়ো। সেখানে পাকিস্তানি সেনাকে হুমকি দিতে শোনা যাচ্ছে এক বাংলাদেশি ‘মুজাহিদকে’। সেই সশস্ত্র জঙ্গির দুই পাশে আরও দুই বন্দুকবাজ দাঁড়িয়ে ছিল। ভিডিয়ো বার্তায় সেই জঙ্গির দাবি, পাকিস্তানি তালিবানের সঙ্গে তারা যুক্ত। এই আবহে টিটিপির ওপর হামলা বন্ধ না করলে পাক সেনাকে তার দাম দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় সেই জঙ্গি।
এর আগে সম্প্রতি জানা গিয়েছিল, তেহরিক-ই-তালিবানের হয়ে লড়তে গিয়ে পাকিস্তানে মৃত্যু হয় তিন বাংলাদেশি নাগরিকের। রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতদের নাম – আহমেদ জুবায়ের, রতন ঢালি এবং ফয়সাল হোসেন। এর মধ্যে রতনের বয়স ২৯ বছর। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। তার বাবার নাম আনোয়ার ঢালি, তিনি পেশায় টোটো চালক, মায়ের নাম সেলিনা বেগম। এই রতন ঢাকায় এক মেডিক্যাল সেন্টারে কাজ করত বলে জানা গিয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে নাকি শেষবারের মতো রতনের কথা হয়েছিল পরিবারের সঙ্গে। রতন ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানেই রতন এবং ফয়সলের মৃত্যু হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে টিটিপির ৫৪ জন জঙ্গিকে খতম করেছিল পাক সেনাবাহিনী। এরপর দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি। এর মধ্যে আহমেদ জুবায়ের হল ঢাকা লাগোয়া সাভারের বাসিন্দা। এদিকে জানা গিয়েছে, এই বাংলাদেশি টিটিপি জঙ্গিরা নাকি দেশ থেকে আরও যুবককে বিদেশে গিয়ে কট্টরপন্থার পথে হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করত। রিপোর্টে জানা গিয়েছে, রতন নাকি তার বাড়িতে দুবাই যাওয়ার কথা বলে বেড়িয়েছিল। তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রতন নাকি ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ ভারতে প্রবেশ করেছিল বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে। এরপর ভারত থেকে আফগানিস্তান যায় সে। সেখান থেকে অবৈধভাবে পাকিস্তানে গিয়ে টিটিপির সঙ্গে যোগ দেয় রতন।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বেঁধেছিল, তার কেন্দ্রে ছিল ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। ৬ নভেম্বর নতুন করে আবার পাক-আফগান সীমান্তে অশান্তি শুরু হয়েছে। পাকিস্তান সেখানে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের দাবি, টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগান তালিবান। আর সেই সব জঙ্গি তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এদিকে তালিবানের পালটা অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বাইতুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের ফেডারেল শাসিত উপজাতি এলাকার বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে একত্র করে টিটিপি গঠিত হয়। এই গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর জন্ম। বর্তমানে টিটিপির মূল লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে তাদের নিজস্ব মতাদর্শে একটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।